ফেনী, জানুয়ারি ০৮ (দি বার্তা ডট কম)- চট্টগ্রামের জনসভা থেকে সরকার পতনে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। রোববার রাতে ফেনী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তিনি বলেন, “আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই। চট্টগ্রামের জনসভা থেকে সরকার বিদায় করতে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব। আওয়ামী লীগের মতো জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি নয়, আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারকে হঠাতে কর্মসূচি দেব।’’ সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। রোববার সকালে ঢাকা থেকে রোড মার্চ করে খালেদা জিয়া সন্ধ্যা ৬টায় ফেনী পৌঁছান। তিনি আধা ঘণ্টার জন্য ফেনী সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি করেন। পরে পৌনে ৭টায় জনসভা মঞ্চে ওঠেন। খালেদার নির্বাচনী এলাকায় (ফেনী-১ আসন) জনসভায় নারী-শিশুর উপস্থিতি ছিলো বেশি। ‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’- এ স্লোগানে মাঠ প্রাঙ্গণ ছিলো সরব। ফেনীর জনসভায় খালেদা জিয়া বক্তব্য শুরু করেন সন্ধ্যা ৭টায়। ৪০ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা, অপশাসন, দুর্নীতি, নতাজানু পররাষ্ট্র নীতি, গুপ্তহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সরকার সংবিধান সংশোধন করে একদলীয়ভাবে নির্বাচন করতে চায়। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশ ও বিদেশেও সেই নির্বাচন মেনে নেবে না।” “আওয়ামী লীগ জানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই আমরা বলে দিতে চাই- দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।” “আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেও আসতে হবে,” যোগ করেন খালেদা জিয়া। “আওয়ামী লীগের অপকর্মের কারণে ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছিলো” মন্তব্য করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবার যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে, আগামীতে ৪১ বছরেও আর তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।” ফেনী জনসভাস্থলে পৌঁছুতে দেরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠছে। রোড মার্চে পথে পথে জনস্রোত নেমেছে। ওই স্রোত পেরিয়ে আমাকে ফেনীর এই জনসভায় আসতে হয়েছে।” আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রাম কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ বিভিন্ন প্রতিশ্র“তি কথা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না দাবি করে এ জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করের তিনি। তিনি বলেন, “সরকার কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না। অথচ তারা বিদেশ থেকে বেশি দাম চাল কিনছে। উদ্দেশ্য একটাই- তাদের দলের লোকজনকে লাভবান করা।” “কৃষকদের কোনো সমস্যার সমাধান তিন বছরে সরকার করতে পারেনি,” যোগ করেন তিনি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া। মহাজোট সরকাকে ‘স্বৈরাচারী’ সরকার অভিহিত করে তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপিকে মিছিল-মিটিং করতে দেওয়া হয় না। দলের কার্যালয় পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখে। সমাবেশের জন্য পল্টন ময়দানের অনুমতি দেয় না। “এরকম আচরণ অব্যাহত থাকলে আগামীতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, জনগনণসরকারের আর কোনো বাধা মানবে না।” জনসভায় বক্তব্য শেষে খালেদা চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চ পুনরায় শুরু করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে রোববার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এই রোড মার্চ শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। সায়েদাবাদ, ডেমরা দিয়ে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ব্যাপক যানজটে রোড মার্চের বিশাল গাড়িবহর চান্দিনার প্রথম জনসভায় পৌঁছাতে খালেদা জিয়ার সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ফেনী পর্যন্ত একশ কিলোমিটার পথে খালেদা জিয়া চান্দিনায় দুইটি, নিমসার বাজারে একটি, কুমিল্লার পদুয়ায় ট্রাক স্ট্যান্ডে পথসভায় বক্তব্য দেন। ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত সায়েদাবাদ, ডেমরা, শনির আখড়া, কাঁচপুর ব্রিজ, সোনারগাঁও, মদনপুর, ববের চর, মেঘনা ব্রিজ, দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার বাজার, কুমিল্লা সেনা নিবাস, পদুয়ার বাজার, মিয়া বাজার, চৌদ্দগ্রাম, চিওড়া প্রভৃতি স্থানে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। কুমিল্লার পর থেকে বৃষ্টি নামলেও মানুষের ঢল কমেনি। ফেনী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুর থেকে মানুষজন খালেদা জিয়ার অপেক্ষায় ছিলো। এই জনসভায় ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়। রোড মার্চ উপলক্ষে পথে শতাধিক স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়। এসব তোরণে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি টানানো ছিলো। এটি বিএনপির চতুর্থ রোড মার্চ। এর আগে গতবছরের অক্টোবর সিলেট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ এবং নভেম্বরে খুলনা অভিমুখে রোড মার্চ করে বিএনপি। ফেনীর জনসভায় খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে জনসভায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, খালেদার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, আবুল খায়ের র্ভঁইয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, রেহানা আক্তার রানু, শাহানা আখতার সানু প্রমুখ বক্তব্য দেন।