মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ

0 ১১১

সিরাজগঞ্জের বেলকুচির সমেশপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ৭ বছর যাবৎ বন্ধ করে দিয়ে মাদ্রাসার নামে জায়গা ও সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ দিয়ে পাচ্ছে না কোনো সুরাহা।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রবেশদ্বার সমেশপুর বাজারে বৃটিশ আমলে সরকারি জায়গার ওপর স্থাপন করা হয় সমেশপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা। স্বাধীনতার পর অত্র এলাকার হাজী আজগর আলী মাদ্রাসা সংলগ্ন তার ২০ ডিসিমাল জায়গা দান করে দেন মাদ্রাসার নামে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে এলাকাবাসী আরও ৪৫ ডিসিমাল জায়গা এই মাদ্রাসাকে দান করেন। মাদ্রাসার খরচ জোগান দিতে বেলকুচি-কড্ডার মোড় আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে ১২টি দোকান করে ভাড়া দেন মাদ্রাসা কমিটি। ধীরে ধীরে মাদ্রাসার লেখাপড়া উন্নত হলে ছাত্র বাড়তে থাকে। তিনতলা বিশিষ্ট একটি মাদ্রাসার বিল্ডিং নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এবং রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।

এজন্য মাদ্রাসার নামে থাকা ৪৫ ডিসিমাল জায়গা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করে কাজ শুরু করেন। এরমধ্যে সরকারি ও স্থানীয়দের অনুদান পায় আরও ২৮ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই ভবনটি নির্মাণের কথা বলে সাময়িকভাবে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেন এই কমিটি। মাদ্রাসা ভবনের নিচতলা সম্পন্ন হলে সেখানে শ্রেণিকক্ষ না করে মার্কেট হিসেবে ২৮টি দোকান করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে দোকান ভাড়া দেন মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ। প্রতিমাসে দুটি মার্কেটের ৪০টি দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকা ভাড়া উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন এই গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ। ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি সমেশপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা। অথচ প্রতিবছর স্থানীয় এমপির বরাদ্দ থেকে টিআর প্রকল্প নিয়ে সেটাও নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের মাঝে।

সমেশপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ছোট বেলায় এই মাদ্রাসাতে মক্তব পড়েছি। মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে নেতারা মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়ে মার্কেট বানিয়ে প্রতিমাসে ভাড়া তুলে ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে। অথচ মাদ্রাসা চালু করছে না।
মাদ্রাসা মার্কেটের দোকানদার সামাদ ভুইয়া বলেন, আমার কাছ থেকে দুইবার মাদ্রাসার ঘর নির্মাণের কথা বলে দেড় লাখ টাকা অ্যাডভান্স নিয়েছে। আমরা এখানে অসহায় ব্যবসা করে খাই। তাদের সঙ্গে ঝগড়া করে তো এখানে থাকতে পারবো না। সংবাদ সংগ্রহকালে মানবজমিনের প্রতিবেদককে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোহাম্মদের ভাই সাবেক সেনা সৈনিক ও বর্তমানে এই মার্কেটের চারটি দোকান দখলকারী আব্দুল হাই আকন্দ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুঁশিয়ারি দেন। এ সকল ব্যাপারে নিউজ করলে অনেক খারাপ হবে বলেও দেয়। এ রাজত্ব নাকি তাদের।
মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বলেন, আমিই খাচ্ছি সকল টাকা তাতে কি? মার্কেটের দোতলায় মাদ্রাসা নির্মাণ করা হবে সময় হলে। এমপি কিছু টিআর বরাদ্দ দিয়েছে। বাকি টাকা হলে কাজ শেষ করে মাদ্রাসা চালু করা হবে। আমাকে নিয়ে এসব লিখে টিকে কিছুই করতে পারবেন না।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিছুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি আমি এখনো অবগত নই। আজই সহকারী কমিশনার ভূমিকে পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যে সকল অভিযোগের কথা বলছেন তা যদি সত্য হয় তাহলে কেউ রেহাই পাবে না।

mzamin

Comments
Loading...