রিকশার চেইন, বোতল, ক্ষুর, পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয় আকিবকে

0 ২৫

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাহাদী জে আকিবকে রিক্সার চেইন, কাঁচের বোতল, ক্ষুর, লোহার পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। ছাত্রলীগ সূত্র এ তথ্য জানায়।

আকিব বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মারধরে তার মাথা থেঁতলে যায় ও খুলির হাড় ভেঙে যায়।

শনিবারের ওই সংঘর্ষে দুপক্ষের তিনজন আহত হন। আহত তিনজনের মধ্যে মাহাদী জে আকিব শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। অপর আহত মাহফুজুল হক ও নাইমুল ইসলাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চমেকে আ জ ম নাছির উদ্দিন ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলে সমর্থিত ছাত্রলীগের দু’পক্ষে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ চলে আসছে। গত ২৭ এপ্রিল চমেক ক্যানটিনে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কটূক্তির ঘটনায় উভয়পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।

শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা চমেক ছাত্রলীগ নেতা ও এমবিবিএস ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌফিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মেনে রাজনীতি করি। এ ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চমেক হাসপাতাল গভর্নিং বডির সভাপতি ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাইয়ের আদর্শ অনুসরণ করি। তাই নাছির গ্রুপের ছেলেরা প্রায় সময় আমাদের ওপর চড়াও হয়। কিন্তু এরপরও আমরা নাছির গ্রুপের ছেলেদের ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দিই না। সেটাই কাল হয়েছে। শনিবার বিনা কারণে ক্যাম্পাসের ছোট ভাই আকিবকে ওরা তারা করে রিকশার চেইন, কাঁচের বোতল, ক্ষুর, লোহার পাইপ দিয়ে মেরেছে। এখন আকিব আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আকিবকে মেরেছে সাদ মো. গালিব, এহছানুল কবির রুমন, ইমতিয়াছ উদ্দিন চৌধুরী, জাহেদুল আলম জিশান, রক্তিম দে, জাহেদুল ইসলাম, সীমান্তসহ আরো অনেকে। হামলায় জড়িতদের তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। ’

চমেক ছাত্রলীগের দু’পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবারই বিকেলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছিল। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সেখানে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেও গ্রুপিং থেমে নেই। তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আকিবের সর্বশেষ অবস্থা বিষয়ে রবিবার চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আকিবকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

তিনি বলেন, তার মাথা থেঁতলানো ছিল, হাড় ভেঙে গেছে। পরে জরুরিভিত্তিতে অপারেশন করে মাথার কিছু অংশ তার শরীরের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সফলভাবে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। আকিব সুস্থ হয়ে উঠবে আশা করি।

উৎসঃ   দেশ রুপান্তর
Comments
Loading...