আলী রিয়াজ: সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন, সরকারের জবাবদিহি নেই কেনো?

67

হাসপাতাল অনুমোদন ছাড়া চললো কিভাবে, কারা কিভাবে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দিলো, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কারণেই অসংখ্য স্বাস্থ্য কর্মীকে প্রাণ হারাতে হয়েছে কিনা, এদের সঙ্গে সরকারী দলের কোন পর্যায়ের ঘনিষ্ঠতা আছে বা নেই, সরকারী ঘোষনায় বানান ভুল আছে কিনা, মিডিয়া কেন আগে এই সব দুর্নীতির খবর অনুসন্ধান করে বের করতে পারেনা, করোনা ভাইরাসের মাত্রা বিষয়ে সরকারী ভাষ্যের বাইরে কেন কিছু প্রকাশিত হয় না – এই সব প্রশ্ন করতে পারেন, কিন্ত আসল প্রশ্নটা কি? কে কার কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য আছে সেটা বোঝা দরকার। সরকার ও ক্ষমতাসীন দল কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়, সে কারণেই কারো কাছে সরকার জবাবদিহি চাইতে সক্ষম নয়, আগ্রহীও নয়। নিজেরা নিজেরা হলে আর জবাবদিহির কথা ওঠে না, ভাগ বাটোয়ারার প্রশ্ন ওঠে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে যে ধরণের আচরণ করা হয়েছে/ হচ্ছে তার লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে স্বান্তনা দেয়া – ‘সব ঠিক আছে’। মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখালেই যারা ভাবছেন যে, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা হবে তারা নিজেরাও জানেন যে এর পরিণতি কি। মৃতের সংখ্যা বা আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে শনাক্তকরনের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কিনা, মাত্রাটা বোঝা যাচ্ছে কিনা। এই অবস্থা মোকাবেলার জন্যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা। কিন্ত ক্ষমতাসীনরা ধরে নিয়েছেন কিছু সংখ্যা কম করে দেখালেই হল। আর যদি এই নিয়ে প্রশ্নও থাকে তা তাঁকে বা তাঁদের পরিবারকে কোন রকম অসুবিধায় ফেলবে না। কিন্ত ইটালীতে কী ঘটেছে সেটা কিসের ইঙ্গিত দেয়? জাপান, চীন, এবং কোরিয়ার ঘটনার পরে এই নিয়ে কোনও রকম মাথা ব্যথা হয়নি।

দেশের ভেতরে জনস্বাস্থ্যের বিপদের সূচনা হয়েছে অনেক আগেই। এই নিয়ে এখন আর বেশ কিছু বলাও হয়না। অর্থনীতির অবস্থা, বিশেষত দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের অবস্থা সকলের জানা। হুহু করে দারিদ্র বাড়ছে। কিন্ত এরই মধ্যে কমপক্ষে ২৫ হাজার শ্রমিককে বেকারত্বের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে। চলছে দুর্ণীতির মহোৎসব। আর সেই নিয়ে কথা বলার পরিণতি হচ্ছে এক ভয়াবহ আইনের ব্যবহার। কিছু নিয়ে কথা বলাই আর নিরাপদ নয়। আগে ‘গোপন ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ শোনা যেতো এখন ‘শলা-পরামর্শই’ যথেষ্ঠ। রাতের আধারে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আটকের ঘটনা ঘটছে। আইন কি বলে, আদালত কি বলেছে সেটা ধর্তব্যের বিষয় নয়। আর কিছু লোককে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এই সবকে আড়াল করার জন্যে অপ্রয়োজনীয় সব বিষয়ে আলোচনা, বিতর্কের সূচনা করার জন্যে। হাসপাতাল, সার্টিফিকেট, সিন্ডিকেট নিয়ে যে সব প্রশ্ন সেই সব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্ত তার চেয়ে বেশি জরুরি এই বিষয়টি বোঝা যে সরকারের জবাবদিহি নেই কেন। এই প্রশ্নকে এড়িয়ে গিয়ে আর কোন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। ফেসবুক থেকে

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here