ঋণ নেয়া ব্যবসায়ীদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা

148
Sheikh Hasina

করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি উন্নতি হলে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেজন্য এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হবে না। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। পরিস্থিতি দেখে তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ফল প্রকাশকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হয়তো এখন আমরা কলেজ খুলব না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা খুলতে পারছি না। আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাচ্ছি। যাতে করে এই করোনাভাইরাস দ্বারা শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত না হয়, কারণ এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ তো আমি ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সেই কারণে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উন্মুক্ত করব না। আমরা দেখি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে পর্যায়ক্রমে আমরা তখন উন্মুক্ত করব। শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না করে ঘরে বসে পড়াশোনা করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যেন ঘরে বসে পড়াশোনা করে। এটা একটা পড়াশোনার ভালো সুযোগও। আমদের নিজেদেরও এখন বেশি কাজ নেই-অনেক কিছু জানার ও পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। সেটাও কম কথা না। এখানে আমি বলব সবাই মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করব তারা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। শিক্ষকদের বলব তাদের সেই শিক্ষাই দেবেন, এই শিক্ষাটা হচ্ছে শুধু নিজে ভালো থাকা না, দেশের কল্যাণে কাজ করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

২ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত দুই মাসে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা ভর্ভুকি দেবে সরকার। ব্যবসায়ীরা যে ঋণ নিয়েছে, সেই ঋণের ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকার যে সুদ হয়েছে। সেই সুদ পরিশোধ বাবদ সরকার এই টাকা দিচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সুদের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবসায়ীরা যাতে ১২ মাসের কিস্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করতে পারেন, সরকার সেই উদ্যোগ নেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার ফলে আনুমানিক এক কোটি ৩৮ লাখ ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হবেন। কোভিড-১৯ এর কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ ছিল। সেই কারণেই তাদেরকে এই সুযোগটা আমরা দিচ্ছি, যাতে তারা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য বা কার্যক্রমগুলো সব চালাতে পারেন।

তিনি বলেন, দুই মাসে ঋণের স্থগিত সুদের পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্য থেকে ২ হাজার কোটি টাকা সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ভর্ভুকি হিসেবে দেবে, যার ফলে ঋণগ্রহীতাদের আনুপাতিক হারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ আর পরিশোধ করতে হবে না। তাদেরকে এইটুকু আমরা মুক্ত করে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সুদের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবসায়ীরা যাতে ১২ মাসের কিস্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করতে পারেন, সরকার সেই উদ্যোগ নেবে। অর্থাৎ যেটা প্রতি মাসে দিতে হতো সেটা এই দুই মাসে যেহেতু দিতে পারেনি, এটাকে আমরা ১২ মাসের একটা সময় দিয়ে দিচ্ছি। এই ১২ মাসে ধীরে ধীরে তারা বাকিটা শোধ করতে পারবেন।

সর্বস্তরের মানুষের জন্যই বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ এভাবে দিয়েছে কি না। কিন্তু আমরা সুযোগটা দিচ্ছি। আমাদের জিডিপির ৩ দশমিক ৭ শতাংশই আমরা প্রণোদনা দিচ্ছি। এত প্রণোদনা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ দিয়েছে কি না জানি না। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব, ব্যাংকের গভর্নর সবার সঙ্গে বসে আমরা নতুন একটা প্যাকেজ দিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে ১৮টি প্যাকেজ দিয়েছি। এটা হলো ১৯ নম্বর প্যাকেজ। ১৯টি প্যাকেজ আমরা দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের বাইরে কওমি মাদরাসা, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ অর্থ সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সহযোগিতা ও ভাতা দিয়েছি।

এ সময় গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

ইনকিলাব

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here