সরকার চায় না বিএনপি নির্বাচনে যাক : নজরুল ইসলাম খান

21

najrulislamআওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচন করে বিএনপির সাথে কখনো জয়লাভ করতে পারেনি মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এ কারণেই সরকার চায় না বিএনপি নির্বাচনে যাক। একইসাথে অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখার বৈধতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বৈধতা থাকল কি না- সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি। আজ বুধবার রাজধানীতে এক সভায় তিনি বলেন, পত্রিকায় এসেছে, দেশের প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে, অবসর গ্রহণের পর যে রায় লেখা হয়, সেই রায় বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। তাহলে যে রায়ের রেফারেন্স দিয়ে আপনারা (সরকার) পঞ্চদশ সংশোধনী করলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দিলেন; সেই রায় তো আজকের প্রধান বিচারপতির ভাষায় বেআইনি ও অসাংবিধানিক।

প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যের পর পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলযোগ্য হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের জনগণও তা-ই চায় বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান। আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মুনির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম পটু, আসাদুজ্জামান, সাদরাজ জামান, এ এম শামীম, লিটন মাহমুদ, সাহাবুদ্দিন মুন্না, কাজী রহমান মানিক, রফিক হাওলাদার, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও সর্দার মো: নূরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন করে খুবই কমই তারা (আওয়ামী লীগ) জিততে পেরেছেন; যার জন্য তারা চান না সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কিংবা বিএনপি যেন নির্বাচনে আসে। কিন্তু বহুবছর ধরে আমরা বলে আসছি, নির্বাচন করার যে বিধান জনগণের আশা-আকাঙক্ষা অনুযায়ী সবার সম্মতিতে করা হয়েছে, তা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন যাবে না। তারপরও করলেন আপনারা (আওয়ামী লীগ)। কী বলেছেন? আদালতের রায়ে আছে। অথচ প্রধান বিচারপতি বলেছেন অবসরের পর রায় লেখা বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থি। তিনি বলেন, ওইসময় যখন প্রধান বিচারপতি চাকরিতে ছিলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছিল- আগামী দুটি নির্বাচন ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা হোক। তা তো করনেনি। মানেনি এই কারণে যে আপনারা সন্ত্রস্ত। আপনারা জানেন, জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে জনগণ আপনাদের ভোট দেবে না।

এসময় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ভোট দেয়ার সুযোগও সরকার দেয়নি অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে বলে দাবি করেন তিনি। নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আমাদের শপথ নিতে হবে তিনি (জিয়া) যেমন একদলীয় স্বৈরশাসনের ওপর গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন, তেমনি আমরাও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো ইনশাল্লাহ। জিয়াউর রহমানের জীবন দর্শন অনুসরণ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি। স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুসহ মহানগর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ কারণে তারা অনুষ্ঠানে আসতে না পারায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন নজরুল ইসলাম খান।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here