চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেছে উদ্ভাবনী অনলাইন বাণিজ্য

0 ৬৭

নজিরবিহীন মহামারি পরিস্থিতিতে বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতিরই অবনতি হয়েছে। বিশেষভাবে আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর ভারত। বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারতের অর্থনীতি ২৩.৯% পড়ে গেছে। 

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম তিন কোয়ার্টারে চীনের জিডিপি ০.৭% বেড়েছে। প্রথম কোয়ার্টারে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ছিল মারাত্মক, প্রবৃদ্ধি ছিল নেগেটিভ ৬.৮%। কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ার্টারে সেটা ৩.২% এবং তৃতীয় কোয়ার্টারে ৪.৯% বৃদ্ধি পায়। 

সম্প্রতি, অর্গানাইজেশান ফর ইকোনমিক কোঅপারেশান অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (ওইসিডি) অনুমান করেছে যে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে ১.৮% হতে পারে। বিশ্বে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীনই একমাত্র দেশ, যারা এই বছরে ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে। 

চীনের দ্রুত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণটা হলো চীন একই সাথে মহামারী মোকাবেলা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। মহামারী যখন তুঙ্গে, চীন তখন অনলাইন অর্থনীতি চালু করে। মহামারী যখন কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে, চীন তখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে অনলাইন আর অফলাইন কর্মকাণ্ড শুরু করে। 

তাওবাও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

এ ব্যাপারে তাওবাও-এর কর্মকাণ্ডের কথা আমি উল্লেখ করতে চাই। তাওবাও চীনের একটি জনপ্রিয় অনলাইন শপিং ও খুচরা প্ল্যাটফর্ম। ২০০৩ সালের মে মাসে আলিবাবা গ্রুপ এটা প্রতিষ্ঠা করে। তাদের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন নিবন্ধিত ইউজার রয়েছে এবং প্রতিদিন ৬০ মিলিয়নের বেশি ভিজিট হয় এটা। একই সাথে প্রতিদিন অনলাইন পণ্য বিক্রির সংখ্যা ৮০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। সেই হিসেবে প্রতি মিনিটে গড়ে ৪৮,০০০ আইটেম বিক্রি হচ্ছে। 

জানা গেছে, তাওবাও স্পেশাল এডিশান গত অক্টোবরে সাংহাইতে প্রথম ‘১-ইউয়ান এক্সপেরিয়েন্স স্টোর’ চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য মতে, এই দোকানে ১.২ মিলিয়ন পণ্য রাখা হয়েছে, যেগুলো ১ ইউয়ান করে কেনা যাবে। জানা গেছে যে, তাওবাও স্পেশাল এডিশান তিন বছরের মধ্যে সারা দেশে অন্তত ১,০০০ ‘১-ইউয়ান স্টোর’ খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। 

কোভিড-১৯ এর জবাবে, তাওবাও চলতি বছরে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর, তাওবাও এখন অনলাইন আর অফলাইন দুইভাবেই তৎপরতা চালাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে তাওবাও বিশেষ মূল্যের ভার্সান চালু করে, যেটার সাথে ১৪৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ১.২ মিলিয়ন ব্যবসায়ী ফার্ম যুক্ত হয়েছে। এখন তাওবাও ‘১-ইউয়ান স্টোর’ চালু করেছে। ১০ অক্টোবর থেকে ১০০ মিলিয়নের বেশি কারখানায় তৈরি পণ্য ১ ইউয়ানের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

আমি যেটা বুঝেছি, তাওবাও-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো একটা শক্তিশালী, বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ও স্থিতিশীল সরবরাহ চেইন সৃষ্টি করা। তাই, তাওবাও-এর ‘১ ইউয়ান ব্যবসা’টা আসলে একটা কৌশলগত বিনিয়োগ। 

‘১-ইউয়ান ব্যবসায়’ জনপ্রিয় করার পেছনে কি কোন ঝুঁকি আছে? অবশ্যই সেখানে ঝুঁকি থাকবে। যেমন বাজারটা গড়ে তোলার জন্য বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিপুল বিনিয়োগ কি ভবিষ্যতে উঠে আসবে? বাজার প্রতিযোগিতা অনেক তীব্র, এবং কিছু প্রতিষ্ঠান এই প্রতিযোগিতা থেকে হারিয়ে যাবে। 

ইন্টারনেট ও বিগ ডেটার উপর ভিত্তি করে, অনলাইন ও অফলাইন ব্যবসায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে, এবং লজিস্টিক্স বন্টনের মাধ্যমে ‘নতুন খুচরা’র ধারণা তৈরি করা হয়েছে যেটা একই সাথে প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায় ও মানুষের জন্য উপকার নিয়ে আসবে। বেশ কিছু বছর ধরে নতুন খুচরার ধারণা এগুতে পারছিল না। এর কোন সুনির্দিষ্ট গতি ছিল না। কিন্তু এখন এটা দ্রুত উন্নয়নের পথে প্রবেশ করেছে। 

নতুন খুচরা ব্যবসায়ের উন্নয়নের ব্যাপারে চীন তার অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভাগাভাগি করতে চায়। চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নতুন খুচরা ব্যবসায়ের উন্নয়ন নিয়ে গভীর আলোচনা করতে পারে এবং এই অঞ্চলে নতুন খুচরা ব্যবসায়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে যৌথ প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে, যাতে মহামারীর মধ্যে ও মহামারী পরবর্তী সময়ে দ্রুত অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠা যায়। 

চেং শিঝোং সাউথওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অব পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাণ্ড ল’-এর ভিজিটিং প্রফেসর, চারহার ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো, দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে। 

Comments
Loading...