বাঁশখালীর ক্ষুদে বিজ্ঞানী আশিরের বিমান উড়ছে আকাশে

0 ২৩

এ যেন এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বিজ্ঞানের ছাত্র নয়। কোনো দিন বিজ্ঞান গবেষণা গারেও যাওয়া হয়নি তার। শুধুমাত্র মনের জোরে বানিয়ে ফেলেছেন বিমান, যুদ্ধ বিমান, ড্রোন, হেলকপ্টার ও স্পিডবোট। আকাশ যানগুলো যেমন উড়তে পারে ঠিক নৌযানও পানিতে ভেসে চলে।

এসবই তৈরী করেছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলের ২১ বছরের তরুণ বিজ্ঞানী আশির। তিনি এখন অনেকের কাছে ঈর্ষণীয় সফলতার শীর্ষে। তার নিজের হাতে তৈরী বিমান, যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন আকাশে উড়ছে আর পানিতে ভাসছে তার তৈরী স্পিডবোট। তার এই সফলতার গল্প ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে।



বাঁশখালী উপকূলীয় পূঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের পাড়ার ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনের বড় ছেলে মো: আশির। বর্তমানে তার বয়স ২১। ২০১৮ সালে থেকে শুধুমাত্র নিজের মনের জোরে প্রথম তৈরী করেন ক্ষুদে বিমান। এরপর থেমে নেই আশিরের গবেষণা। একের পর এক তেরী করে চলেছেন যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও হাই স্পিডের স্পিডবোট।

তার তৈরী করা বিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও যুদ্ধ বিমান আকাশে উড়িয়েছেন একাধিকবার। তার নিজের তৈরী স্পটিবোটও পানিতে চালিয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানী আশি।



বুধবার দুপুরে সরাসরি আশির নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন তার তৈরী করা বিমানের ওজন তিন কেজি। চার কিলোমিটার বেগে এটি টানা ৩৫ মিনিট আকাশে উড়তে পারে।

আশির জানিয়েছেন, তার এখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টির প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি পেলে আমি দেশেই তৈরী করতে পারবো বিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্পিডবোট।

তার খালাতো ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানান, তারা তিন ভাই। আশির সবার বড়। ২০১৫ সালে পূঁইছড়ি ইজ্জতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি ও ২০১৭ সালে মাস্টার নজির আহমদ ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

আশির জানিয়েছেন, তার ছোট গবেষণাগার রয়েছে। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন ডিজাইনের বিমান, বোয়িং হেলিকপ্টার, স্পিডবোট তৈরি করেন এবং নিজের কন্ট্রোলে তিনি তা আকাশে উড়ান। তার বড় আশা, তিনি সরকারি সহযোগিতা পেলে বড় গবেষণাগার গড়ে তুলবেন।

বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়ে কিভাবে তিনি এসব তৈরী করেছেন- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, মনের জোরে এসব তেরী করেছি। তিনি আরো জানান, বিজ্ঞানের ছাত্র না হওয়ায় এইচএসসি পাস করে সার্টিফিকেটের জন্য চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে একটি পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হয়েছেন।

আশির জানান, তার তৈরী ড্রোন দিয়ে অনায়েসে জুরুরি সেবা দেয়া যাবে। যেমন ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানো, জরুরি ওষুধ ও রক্ত পৌঁছানোর মতো কাজ করা যাবে বলে তিনি দাবি করেন।

উৎসঃ   নয়া দিগন্ত
Comments
Loading...