চলে গেলেন গেরিলা কমান্ডার শহীদুল হক মামা

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার শহীদুল হক মামা আর নেই। গুরুতর অসুস্থ হয়ে এ বছর মে মাসে কাতারের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের এর লড়াকু সেনা বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে (ইন্নালিল্লাহে…রাজিউন)।
ঢাকার মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায় বিহারিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি ৬৬ -তে ছয় দফা , ৬৯-তে গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি জড়িত ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর আশির দশকে সুইডেনে পরিবার নিয়ে পারি জমান তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন তিনি।
সকলের কাছে শহীদুল হক মামা হিসেবে পরিচিত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও তার কিডনির সমস্যা থাকায় কয়েকবার ডায়ালাইসিস করা হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দুই যুগেরও বেশি সময় সুইডেনে সপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন ইউরোপের বাঙালি কমিউনিটির অত্যন্ত সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব শহীদুল হক মামা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সশস্র সংগ্রামে। যুদ্ধের শুরুতে ২নং সেক্টরে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন তিনি। সালদা নদীর ভয়ঙ্ককর যুদ্ধ শেষ করে হানাদারদের খতম করে ঢাকার উদ্দেশ্যে মার্চ করে আসেন এই অকুতোভয় যোদ্ধা।
শহীদুল হক মামার ভাষায়, “সারা বিশ্ব জানে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল কিন্তু রাজধানীর মিরপুর হানাদার মুক্ত হয়েছিল বাহাত্তরের ৩১ জানুয়ারি”। মিরপুর-মোহাম্মদপুরকে স্বাধীন করতে তখন শহীদুল হক মামার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল দুর্ধর্ষ গেরিলা গ্রুপ ‘মামা বাহিনী’। হানাদার-বিহারীদের আতঙ্ক এই ‘মামা বাহিনী’র কমান্ডার শহীদুল হক মামা রায়ের বাজার থেকে উদ্ধার করেছিলেন বাজারের ব্যাগভর্তি মানুষের চোখ।
জীবনের পথচলায় আশির দশকে পাড়ি জমান স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ক্যাপিটাল সুইডেনে। দূর প্রবাসেও শহীদুল হক মামা বরাবরই ছিলেন স্পষ্টভাষী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সুনিশ্চিত করতে নিজের খরচে সুইডেন থেকে তিনি বাংলাদেশে যান শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রসিকিউশনের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন তিনি। এজন্য জীবনের চরম ঝুঁকি নিতে হয়েছে শহীদুল হক মামাকে।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিম

print

LEAVE A REPLY