প্রতিক্রিয়ায় ফরহাদের মজহারের স্ত্রী , আইজিপির বক্তব্যে অবাক হয়েছি

কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের স্ত্রী এবং নারী অধিকার কর্মী ফরিদা আখতার বলেছেন, ফরহাদ অপহৃত হননি- তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আইজিপির এমন বক্তব্যে অবাক হয়েছি। তিনি প্রশ্ন করেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আইজিপি কীভাবে নিশ্চিত হলেন ফরহাদ অপহৃত হননি?

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করতেই তিনি অপহরণ নাটক সাজিয়েছেন এবং স্বেচ্ছায় গেছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফরিদা আখতার যুগান্তরকে এ কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু রাষ্ট্র ভিকটিমকে দোষারোপ
করে তাকে আরও আক্রান্ত করছে। এ ঘটনা সঠিক তদন্ত হচ্ছে না বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ফরহাদের অপহরণ নিয়ে পুলিশ একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছে। তিনি সুস্থ হয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন। ডাক্তারের পরামর্শে তিনি বাসায় মেডিকেশনে আছেন। ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না।

ফরহাদ মজহারের স্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড্ডা থেকে দু’জন নারী জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে। আমার মনে হচ্ছে, এটা আরেকটা যড়যন্ত্র। ঘটনার মোড় ঘুরাতে এসব করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তের নামে যা করছে, তাতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অর্চনা রানীর আদালতে জবানবন্দি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নোংরা বিষয়। এ নিয়ে কথা বলতে চাই না।

আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা প্রকাশে ভীত নই- গার্ডিয়ানকে ফরহাদ মজহার : এদিকে ফরহাদ মজহার বিদেশি গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা প্রকাশে তিনি ভীত নন।

বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেয়া বুধবারের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি এখনও তীব্র মানসিক ঘোরে রয়েছেন এবং তা থেকে সেরে উঠতে সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অপহরণের পর যারা জীবিত উদ্ধার হন, তারা রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থাকেন। কিন্তু আমি যখন কাজে ফিরব, তখন এ ইস্যু নিয়ে কাজ শুরু করব। জোর করে অপহরণের সংস্কৃতি আমাদের বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফরহাদ মজহার বলেন, গত সপ্তাহে ভোর ৫টার দিকে তার বাসার কাছে সড়ক থেকে কারা তাকে ‘অপহরণ’ করেন, সেটা তিনি নিশ্চিত নন। ওইদিন সকালে তার চোখে সমস্যা ছিল। তাই ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আকস্মিক তিনজন মানুষ, যারা সম্ভবত রাস্তায় হাঁটা অবস্থায় ছিলেন, আমাকে সাদা একটি মিনিবাসে ধাক্কা দিয়ে তুলে নেয়।

৬৯ বছর বয়সী ফরহাদ মজহার ‘অপহরণকারীদের’ সম্পর্কে বলেন, তারা আমার সঙ্গে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং চোখ বেঁধে ফেলে। হাঁটু দিয়ে তারা আমাকে গাড়ির মেঝের সঙ্গে চেপে ধরে।

ফরহাদ মজহার জানান, অল্প সময়ের জন্য তিনি তার পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি বের করে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

তিনি বলেন, আমি ফিস ফিস করে বলেছিলাম, তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে হত্যা করবে।

ফরহাদ মজহার বলেন, ছেড়ে দিতে তিনি অপহরণকারীদের মুক্তিপণ দেয়ার প্রস্তাব করেন। পরে তারা তাকে মোবাইল ফোন দেয় এবং তিনি স্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। কয়েক ঘণ্টা বাসে ভ্রমণ করতে হয়। তারা আমাকে নির্যাতন করেছে, কিছু সময় খারাপ কথা বলেছে। তারা আমাকে চড়ও মারে।

তিনি বলেন, ১০ বা ১২ ঘণ্টা পরে তারা আমাকে ছেড়ে দেবে বলে জানায়। তারপর তারা আমাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় অল্প অন্ধকার স্থানে ছেড়ে দেয়। তারা আমাকে একটি বাসের টিকিট দেয় এবং ঢাকায় ফিরতে খুলনা শহর থেকে গাড়িতে চড়তে বলে। আমি অল্প দূর হেঁটে খুলনার একটি মার্কেটে পৌঁছাই। সেখানে সোয়া ৯টার বাস ছাড়ার আগে কিছু খাবার খাই।

print

LEAVE A REPLY