সিলেটের তিন ইউএনও-র মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে চাঁদা দাবি

সিলেটের তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে চাঁদা দাবি করেছে প্রতারক চক্র। নিজেদের ইউএনও দাবি করে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য টাকা দাবি করা হয়। তবে প্রতারকদের ফাঁদে কোনো জনপ্রতিনিধি পা দেননি। প্রতারকদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ।
যাদের সরকারি নাম্বার ক্লোন করা হয়েছে তারা হলেন, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, বিশ্বনাথের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদ্দুজ্জামান।
সিলেটের ওসমানীনগরের ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রোববার দুপুরে তার সরকারি মোবাইল নাম্বার ক্লোনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে ওসমানীনগরবাসীকে তার ক্লোন হওয়া মোবাইল নম্বর থেকে টাকাপয়সা চাইলে না দিতে অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘রোববার দুপুরে তার মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে উপজেলার উছমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল ফারুকের কাছে টিআর-কাবিখা বরাদ্দের জন্য বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে। এ সময় চেয়ারম্যান ফারুক কলদাতাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে ফোনের লাইন কেটে দেয়। বিষয়টি চেয়ারম্যান তাকে জানালে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাকে নির্দেশ দেন ও একটি জিডি করেন।’
এদিকে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল নাম্বার ক্লোন করার বিষয়টি ধরা পড়েছে। প্রতারক চক্র নিজেদের ইউএনও পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে। এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানায় জিডি করেছেন ইউএনও অমিতাভ পরাগ তালুকদার।
তিনি বলেন, আমার সরকারি মোবাইল নাম্বারটি ক্লোন করেছে প্রতারক চক্র। দু’জন চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে আমাকে অবগত করেছেন। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি। তারা প্রতারক চক্রকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে।
একইভাবে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদ্দুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে ইউপির চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা দাবিকারী নিজেকে ইউএনও হিসেবেও পরিচয় দেয়। রোববার মোবাইল নম্বর ক্লোনের এ ঘটনাটি ধরা পড়লে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ইউএনও।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদ্দুজ্জামান বলেন, তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরটি একটি প্রতারক চক্র ক্লোন করে উপজেলার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিকাশে ২ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে। বিষয়টি চেয়ারম্যানদের সন্দেহ হলে তারা আমার ব্যক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার পাশাপাশি থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করেছি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার এ ব্যাপারে বলেন, আমাকে বিয়ানীবাজারের ইউএনও তার সরকারি মোবাইল নাম্বার ক্লোন হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। বাকিরা আমাকে জানায়নি। যদি এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে তবে তা উদ্বেগজনক।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে কোনো তথ্য এখনো জানানো হয়নি। যদি এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে তবে পুলিশ দ্রুত প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ করবে।

print

LEAVE A REPLY