অভ্যুত্থানচেষ্টার বর্ষপূর্তি । বিশ্বাসঘাতকদের মাথা কাটার হুঁশিয়ারি এরদোয়ানের

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত শনিবার জাতীয় ঐক্যের প্রদর্শনী হিসেবে দেশজুড়ে বহু সভা-সমাবেশ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক সমাবেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিশ্বাসঘাতকদের ‘মাথা কাটা হবে’।

তুর্কি সরকার ‘গণতন্ত্র ও ঐক্য’ দিবস উপলক্ষে ১৫ জুলাই ছুটি ঘোষণা করে। সেনাবাহিনীর একাংশের অভ্যুত্থানচেষ্টার ওই ব্যর্থতাকে এরদোয়ান সরকার ‘তুর্কি গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক বিজয়’ আখ্যা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে রাজধানী আঙ্কারায় পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেন এবং ইস্তাম্বুল নগরে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। তারপর রাজধানীতে ফিরে গিয়ে পার্লামেন্টের বাইরে জনসভায় অংশ নেন এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিশেষ অনুষ্ঠান করেন।

ইস্তাম্বুলের সমাবেশে এরদোয়ান তুরস্কে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আবার চালু করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘প্রথমে আমরা বিশ্বাসঘাতকদের মাথা কাটব।’

ইউরোপের সঙ্গে সংগতি আনতে তুরস্ক ২০০৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলোপ করে। পার্লামেন্ট ওই বিধান পুনর্বহাল করার কোনো বিল অনুমোদন করলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তা অনুমোদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

এরদোয়ান প্রায় দেড় দশক ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় অটল রয়েছেন। তাঁকে উৎখাতের জন্য গত বছরের ১৫ জুলাই সেনাবাহিনীর একটি অসন্তুষ্ট অংশ বিদ্রোহ করে এবং রাস্তায় রাস্তায় ট্যাংক নিয়ে বেরোয়। বিদ্রোহীরা আকাশে যুদ্ধবিমানও ওড়ায়। এ সময় অভ্যুত্থানকারীরা ছাড়া ২৪৯ জন নিহত হয়। কিন্তু এরদোয়ানের সমর্থকেরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভ্যুত্থানচেষ্টা রুখে দিতে সক্ষম হয়। আঙ্কারার অভিযোগ, এ অভ্যুত্থানচেষ্টার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের হাত আছে।

তুরস্ক আবার মৃত্যুদণ্ড চালু করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) দেশটির সদস্যপদ লাভের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে বলে জোটটি সতর্ক করে দিয়েছে।

print

LEAVE A REPLY