ঐক্য না থাকলে সামনে বিপদ: ওবায়দুল কাদের

রোববার বন্দর নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় বক্তব্যে দলের নেতা-কর্মীদের এই সতর্কবার্তা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “মাঝে মাঝে আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলেন, মনে হয় আপনার দলের লোক বিএনপির চেয়ে আপনার বেশি শত্রু।

“একটা কথা বলতে চাই, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, আগামী নির্বাচনে কেউ আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে পারবে না।

“ঐক্যবদ্ধ না হলে আপনারা দূর্বল হলে আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি হবে সেটা ২০০১ সালের চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে। সে কথা কি ভেবে দেখেছেন? অতীতের সে দুঃসহ স্মৃতি যদি মনে থাকে তাহলে অনৈক্য করবেন না। কলহ করবেন না, দলকে বিভক্ত করবেন না। ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না।”

২০০১ সাল থেকে বিএনপির পাঁচ বছরের শাসনকালকে ‘অমানিশার অন্ধকার’র সঙ্গে তুলনা করে মন্ত্রী কাদের বলেন, “সে অন্ধকারে ফিরে যাবে, যদি বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসে।

“বিএনপি ও তার দোসররা যদি ক্ষমতায় আসে, আবারও একুশে অগাস্টের মতো ঘটনা ঘটবে। নজিরবিহীন খুন, লুণ্ঠন ও নৈরাজ্য ফিরে আসবে।”

বিএনপির বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “একটা কথা বলে রাখি, বিএনপির এখন প্রধান শত্রু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি ও তার দোসরদের প্রধান টার্গেট এখন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে হটাতে পারলে বিএনপির শান্তি।

“তবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিদেশে বসে শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর চক্রান্ত কখনও সফল হবে না। আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন।”

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ ভোট নিয়ে বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

“নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের নেতৃত্ব দিবেন শেখ হাসিনা। আপনারা (বিএনপি) নানা ধরনের ফর্মুলা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন।”

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদও নির্বাচন নিয়ে হানিফের মতোই বলেন, “সে সরকারের নেতৃত্ব দিবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে।”

এসময় পাশে বসা ওবায়দুল কাদের ইশারা করলে হাছান মাহমুদ এ নিয়ে কথা আর না বাড়িয়ে অন্য বিষয়ে চলে যান।

নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “মাহমুদুর রহমান মান্না অতি চালাক ছিলেন। তাই তার গলায় দড়ি পড়েছে।”

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) এনামুল হক শামীম ‘অকারণে’ এমপিদের সমালোচনা না করতে তৃণমূল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

“অকারণে যেমন সমালোচনা করা ঠিক না, তেমনি সমালোচনা করলে কর্মীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করবেন না।”

প্রতিনিধি সভায় তৃণমূলের নেতারা বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় দ্রুত বর্ধিত সভা ডেকে তাদের মতামত শোনার জন্য জেলা নেতাদের পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূলের কথা আমাদের খুব খারাপ লাগে। সমালোচনা আমরা সইতে পারি না।

“সমালোচনা শুনতে হবে। সমালোচনা যদি সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে হয়, সেটা আমি শুনব। সেটা আমি শুনতে চাই। আই অ্যাম নট অলওয়েজ রাইট।”

আবার পদ হারানোর ভয়ে কর্মীরা নেতাদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকেন বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

“ভয়ে অনেকে মনের কথা মুখে আনে না। এদের মুখে ভাষা দিতে হবে। এদেরকে কথা বলতে দিতে হবে। এদের নালিশ শুনতে হবে। সেটাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। সমালোচনা, আত্মসমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রাণ।”

প্রতিনিধি সভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

print

LEAVE A REPLY