জাস্টিস সিনহার পদত্যাগের পরও কাটছে না সঙ্কট!

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন এতে সরকারের স্বস্তি এলেও  জনগনের অস্বস্তি বেড়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন প্রধান বিচারপতির এ ধরনের পদত্যাগের নজির নেই। ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিলেন জাস্টিস সিনহা।

ছুটি শেষে তিনি যখন দেশে ফিরেছিলেন তখন তাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছিলো। তিনি অসুস্থ তাকে ছুটি দেয়া হয়েছে। তিনি ছুটির জন্য দরখাস্ত করেছিলেন সেই দরখাস্তের স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। পত্র পত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে এ নিয়ে ঝড় উঠেছিলো। এমন কি সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিলো ওই স্বাক্ষর জাল করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

এসব নিয়ে জাস্টিস সিনহার বক্তব্য না পাওয়া গেলেও দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় বিমান বন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন তিনি অসুস্থ নন। তারপর দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া গেলেন সেখান থেকে সিঙ্গাপুর এসে পদত্যাগ করেলেন। এ ছাড়া কি কোন পথ ছিল প্রধান বিচারপতির? এর উত্তর না, আর কোন পথ ছিল না, সরকার থেকে প্রকাশ্য বলা হয়েছে তার দেশে ফিরে আবার দায়িত্ব নেয়া সুদূর পরাহত। পরে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বললেন, অন্য বিচারপতিরা তার সাথে এজলাসে বসতে চান না, এই অবস্থায় তার পদত্যাগ ছাড়া আর কোন পথ ছিল না।

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের রিভিউ করবে সরকার এ মাসেই। এই রিভিউতে ষোড়শ সংশোধনীতে পরিবর্তন আসবে এটা এখন নিশ্চিতভাবে ধারনা করা যায়। এই পরিবর্তনে জাস্টিস সিনহার সই করতে হবে না, তিনি তার নেতৃত্বে দেয়া মূল রায়েই অটল থাকলেন এই পদত্যাগের মধ্য  দিয়ে।

এস কে সিনহা সমঝোতায় রাজী থাকলে তাকে হয়তো ফিরতে এবং এজলাসে বসতে দেয়া হতো। তিনি সমঝোতায় রাজী হননি নিজ সিধান্তে অটল থেকেছেন এটাই তার বিজয়। 

ষোড়শ সংশোধনীতে অন্য যেসব বিচারপতি স্বাক্ষর করেছিলেন তার মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিছারপতি ওয়াহাব মিয়াঁও ছিলেন। রিভিউ আপীলে তিনি এখন কি ভুমিকা পালন করে তা দেখার বিষয়। রিভিউ আপীলের ফলাফল নিয়েও আগামীতে  বিতর্ক হবে। সেই বিতর্কের অবসান কিভাবে হবে তাও অজানা, সেখানে যদি রায় থেকে সরকারের আপত্তির অংশগুলো বাদ দেয়া হয় তা হলে কঠিন সমালোচনা হবে আবার বিচার বিভাগ বিতর্কের মুখে পড়বে। সবাই মনে করবে সরকারের চাপের মুখে বিচারবিভাগ নতি স্বীকার করেছে এবং বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণনে নিয়ে নিয়েছে। এর ফলে আবার  সঙ্কটে পরবে বিচার বিভাগ। 

এনিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উতপ্ত  হতে পারে, সামনে নির্বাচন সরকারের জন্য এটা অশুভ হতে পারে। সব মিলিয়ে জাস্টিস সিনহার পদত্যাগের পরও সঙ্কট কাটছে না, আরও গভীর সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে।

লেখক: হাবিব বাবুল
জার্মানি প্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক

print

LEAVE A REPLY