রাজনীতি কি আবারো পথ হারাবে?

হাবিব বাবুল: খালেদা জিয়া স্পষ্ট  করেছেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে তিনি কোন নির্বাচনে যাবেন না। তিনি এর আগে সহায়ক সরকার চেয়েছিলেন নির্বাচনের জন্য, কিন্তু তার রূপরেখা দেননি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করতে চাইলেও আওয়ামীলীগ সরকারের অন্য কারও অধীনে নির্বাচনে যাবেন কি না তা স্পষ্ট করেননি খালেদা জিয়া।

বিএনপি থেকে অনেকবার আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হলেও সেই প্রস্তাব আওয়ামীলীগ থেকে বার বার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের আর মাত্র একবছর বাকী থাকলেও কোন রোড ম্যাপ জনগণ পায়নি।

বিএনপির জনসভায় খালেদা জিয়ার ভাষণ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তিনি  সহায়ক বা নির্বাচনকালীন নিরেপেক্ষ সরকারের  দাবী থেকে সরেননি। যদিও তার দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছিলেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। বেগম জিয়ার ভাষণে মওদুদ আহমেদের সেই কথার আর মূল্য থাকলো না।

এ দিকে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়। তারা মনে করছে শেখ হাসিনা নির্বাচনের সময় সরকার প্রধান না থাকলে দলের নেতা কর্মীরা মনোবল হারাবে। ফলে নির্বাচনে জয়ের কোন নিশ্চয়তা থাকবে না। নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারলে কি হবে তা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগেই বলেছেন যে, টাকা পয়সা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। গতকাল মন্ত্রী মীর্জা আজম বলেছেন আমাদের অবস্থা রোহিঙ্গাদের মতো হবে। তাই নেতা কর্মীদের মধ্যে একধরনের ভীতি তৈরি হবে যদি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকেন। দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের একমাত্র ভরসাস্থল তাদের সভানেত্রী। তাই তারা বলছেন নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।

দুই দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান থেকে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতি ২০১৪ সালের আগের জায়গাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে, এগোইনি একটুও।

এখন প্রশ্ন হল, তা হলে কি আবার এনিয়ে রাজপথে সংঘাত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও জানা না গেলেও আন্দাজ করা যায় একটা সমঝোতা না হলে সংঘাত অনিবার্য। দুই দলই যদি কোন ছাড় না দিয়ে যার যার অবস্থানে অটল থাকে তা হলে কি হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। হয়তো ২০১৪ সালের মতো সহিংস কিছু হবে না, রাজপথে শান্তি পূর্ণ  আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি মাঠ গরম করবে। সেই আন্দোলনের ফলে সরকার একটা চাপের মুখে পরবে।

আন্তর্জাতিক শক্তি আবার মধ্যস্থতা করতে আসবে তখন কিছুটা ছাড় সরকারকে দিতেই হবে। দেশের জনগনের আকাঙ্খা কোন সংঘাত নয়।

একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে নির্বাচন কিভাবে কার অধীনে হবে তা এখনই সিধান্ত নেয়া উচিত তা হলে নির্বাচন কমিশনও একটি পথ খুঁজে পেতে পারে। দেশের জনগনের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসবে, গণতন্ত্রও মুক্তি পাবে। রাজনীতি ও পথ হারাবেনা।

লেখক: হাবিব বাবুল
জার্মানি প্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক

print

LEAVE A REPLY