ঢাবিতে শিক্ষকদের হাতাহাতি ,দেখে নেয়া’র হুমকি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসানকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী শিক্ষক ১০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

‘অত্যন্ত অপমানজনক ও ভীতিউদ্রেককারী ভাষায় হুমকি’ শিক্ষক জামাল উদ্দীন তাকে হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

জিডিতে শিক্ষক মেহেদী হাসান উল্লেখ করেন, ‘গত ২৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদল কর্তৃক আয়োজিত সাধারণ সভা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন কর্তৃক আক্রমণের স্বীকার হন। কিন্তু আক্রমণকারী শিক্ষক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন মিডিয়ার কাছে অসত্য তথ্য প্রদান করায় আমি যেহেতু ওই ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম, তাই ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনের মিথ্যাচারের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রকাশ করে যথাযথভাবে এর প্রতিবাদ করতে থাকি।

এর প্রতিক্রিয়ায় ৬ নভেম্বর রাত ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ২৫ মিনিটের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন আমার মোবাইলে ফোন করে অত্যন্ত অপমানজনক ও ভীতিউদ্রেককারী ভাষায় হুমকি প্রদান করেন।’
জিডিতে ওই শিক্ষক উল্লেখ করেন, তাকে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন কয়েক দফায় হুমকি দেন। তিনি তাকে বলেন, ‘আপনার পরিণাম খুব কঠিন হবে। আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকবেন। কারণ পরিস্থিতি যে কোনো সময়ই চেঞ্জ হয়ে যাবে। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। তার এ হুমকির কারণে আমি এবং আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি।’

জামাল উদ্দীনের হুমকির কল রেকর্ড রয়েছে বলেও জানান অভিযোগকারী শিক্ষক। ‘দেখে নিবেন বলে’ হুমকি দেয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলে জানান শিক্ষক মেহেদী।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই শিক্ষক শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেছেন বলে অবহিত হয়েছি।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা চেয়ে এক শিক্ষক জিডি করেছেন। আমরা আমাদের মতো করে বিষয়টি তদন্ত করছি।’

ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘শুনেছি এক শিক্ষক অন্য এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন।’ অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তখন দেখা যাবে।’

print

LEAVE A REPLY