সংগ্রামী নারী ডা. ওয়াইন আজিজাহ: দায়িত্বশীল স্ত্রী থেকে মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রথম নারী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল একজন চিকিৎসক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, দৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্তদের আরোগ্যের কারিগর, আনোয়ার ইব্রাহীমের স্ত্রী। তার জীবন সংগ্রাম নিয়ে লেখা হয়েছে ‘স্ট্রাগল ফর জাস্টিস: দি স্টোরি অব ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল অব মালয়েশিয়া’। একজন সুযোগ্য কন্যা, একজন মমতাময়ী মা একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী, একজন সমাজসেবক, একজন রাজনীতিবিদ – সবকিছুর সমন্বয় ঘটেছে ৬৫ বছর বয়সী এই সংগ্রামী নারীর জীবনে।

১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন ডা. আযিযাহ ইসমাইল। Tunku Kurshiah কলেজে অধ্যায়নের পরে তিনি আয়ারল্যান্ডের রয়াল কলেজ অব সার্জনে গাইনোকলোজি ও অবসটেট্রিকসে কৃতিত্বের স্বাক্ষর হিসাবে গোল মেডেল পান। পরে অপথ্যালমলজিতে বিশেষজ্ঞ হন। সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ার পরে দীর্ঘ ১৪ বছর চিকিৎসা সেবা দেন। এরপরে সামাজিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং জাতীয় ক্যান্সার কাউন্সিলের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে যখন আনোয়ার ইব্রাহীম গ্রেফতার হন তারপর থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৯ সালে Keadilan Rakyat নামে দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। তার দল পরে মালয়েশিয়ান পিপলস পার্টির সাথে একীভূত হয়। সেখানেও তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ডাঃ আযিযাহ ইসমাইল প্রথম সংসদ নির্বাচন করেন ১৯৯৯ সালে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবারের জাতীয় নির্বাচনে তার দল মাহাথির মোহাম্মাদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। আনোয়ার ইব্রাহীমের অনুপস্থিতিতে দলকে ধরে রাখা, সামাজিকও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈষম্য দূর করাই ছিল তার রাজনীতিতে আসার মূল কারণ। পেশা এবং রাজনীতির বাইরে তিনি একজন চমৎকার ব্যক্তিও। ৬ সন্তানের জননী তিনি। নাতি নাতনি নয়জন।

মায়ের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার বড় মেয়ে, যিনি নিজেও একজন সংসদ সদস্য, নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ার বলেন, ‘আমার মা জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে এসেছেন। তিনি একজন আধ্যাত্মিক মানুষ। সবকিছুতে তিনি স্রষ্টার ওপর নির্ভর করেন। শত ব্যস্ততার পরেও তিনি পরিবারকে সময় দেন। সপ্তাহে একদিন সন্তান ও নাতি নাতনিদের নিয়ে একসাথে বসেন পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখতে।’

আনোয়ার ইব্রাহীম গ্রেফতার হওয়ার পরে ২০০০ সালে একবার এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকরা তাকে বলেন, কষ্টের মাঝেও আপনি দেখছি সবসময় হাসিমুখে। জবাবে তিনি বলেন, আমি কুরআন পড়ি। ওখানে একটা আয়াত আছে যে, আল্লাহ কাউকে তার দায়িত্ত্বের ওপরে কিছু চাপিয়ে দেন না। তাই আমি মনে করি যা কিছুই ঘটুক তার পেছনে কল্যাণ আছে।

যা হোক স্রষ্টা! পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মহীয়সী খুব কমই পাঠাও তবু সম্ভব হলে মোগল সাম্রাজ্য থেকে এমন সংগ্রামী নারী আমাদের সৌভাগ্যে নসিব করিও…!!

print

LEAVE A REPLY