চানখারপুলে নকল বিদেশি মদের কারখানার সন্ধান

রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় মঙ্গলবার নকল বিদেশি মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছেন। বিদেশি মদের বিভিন্ন ব্যান্ডের পুরনো বোতলে নকল মদ ঢুকিয়ে বিক্রি করার অভিযোগে মো. নাসিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা জানান, নাসিমের নেতৃত্বে প্রায় তিন বছর ধরে চলছিল এ কার্যক্রম। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোগোসংবলিত ব্যাগে করে বিভিন্ন স্থানে এসব মদ পৌঁছে দিত। অভিযানে এক হাজারেরও বেশি বিদেশি মদের বোতল, নকল স্টিকার, বোতলের ছিপ, ছিপে ছাপ বসানোর ডাইস ও বোতলভর্তি নকল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক একেএম কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চানখারপুলের একটি বাড়ির দোতলা ও তিনতলায় নকল মদের কারখানা স্থাপন করে ব্যবসা চলছিল। সেখানে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে নকল মদ ঢুকিয়ে তারা মাদক ব্যবসা করছিল।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ কারখানার ব্যবসা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। বিদেশি ব্যান্ডের বোতলে ভরে এসব মদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হতো। তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানোর সময় নাসিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানায়, নাসিম পুরনো জিনিসপত্র কেনাবেচার আড়ালে বিদেশি নকল মদ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। ৮-১০ জন প্রতিনিধির মাধ্যমে এ নকল মদ বিদেশি বলে ঢাকার বাইরে বিক্রি করত। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বালিগাঁও এলাকায় আতাউর রহমানের ছেলে নাসিমের সঙ্গে মো. আজিজ নামে পটুয়াখালীর আরেক ব্যক্তি এ ব্যবসায় জড়িত।

জিজ্ঞাসাবাদে নাসিম জানায়, ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিদেশি মদের বোতল তারা ২০-৩০ টাকা করে কেনেন। তারপর এগুলো পরিষ্কার করে বিদেশি বিভিন্ন নামি মদের ব্যান্ডের নামসংবলিত স্টিকার তৈরি করে তা বোতলে লাগিয়ে দেয়। এরপর কর্কের ওপর ডাইস দিয়ে বিশেষ কায়দায় সিল দেয়। এরপর বোতলে নকল মদ ঢোকানো হয়।

কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি এসব নকল মদ তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পাঠায়। অনেকে আবার তার কাছ থেকে শুধু বোতল কিনে নিয়ে যায়। তারা নিজেরা মদ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। একটি মদের বোতল পুনরায় স্টিকার, ছিপ ও ধুয়েমুছে সে বেশি দামে বিক্রি করে। তার ব্যবসায়িক পার্টনার আজিজ অভিযানের সময় পালিয়ে গেছে। নাসিমের কাছ থেকে নিয়ে নিউমার্কেট এলাকার সাগর, সাভার এলাকার সুইট ও মোহাম্মদপুর এলাকার আলমগীর নকল এ বিদেশি মদ বাজারজাত করে। তবে তারা কেউ আটক হয়নি।

print

LEAVE A REPLY