হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মী

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের তালিকা চেয়ে ওবায়দুল কাদেরের আহ্বানকে নোংরা রসিকতা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, হামলাকালীদের ছবি যখন স্পষ্ট, তখন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই কথার মানে হয় না।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শেষ দিকে অছাত্রদের এই আন্দোলনে জড়িয়ে যাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতাও। ছাত্রের পোশাক পরাদের মধ্যে যেমন চাপাতি হাতে তরুণদের দেখা যায়, তেমনি আবির্ভাব ঘটে হেলমেটধারী কিছু তরুণের, যারা আক্রমণ চালিয়েছে সাংবাদিকদের ওপরও।
অভিযোগ উঠেছে, যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। তবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগ জড়িত, এই প্রমাণ পেলে তিনি বিচার করবেন। প্রমাণসহ তালিকাও চেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের জবাব দেন ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মী ছিল। এটি আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্রছাত্রীরা বলার পরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়।’
ফখরুল বলেন, ‘তারাই (কাদের) পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেই পুলিশই তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোশধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

‘পত্রিকায় আক্রমণকারীদের অনেকেরই ছবি ছাপা হয়েছে, কোনো কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণকারীদের ছবির ছড়াছড়ি’র কথা তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য ওবায়দুল কাদের কেন ছবি ও নাম চান?’
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন। তারা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর তথ্যমন্ত্রী সরকারি খরচের চিকিৎসার পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

এই বিষয়টির ‍উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাতে হয়। কি বিচিত্র এই দেশ! আর বিচিত্র বলেই তারা অপরাধ করে তার দায় চাপানোর চেষ্টা করছে আমাদের ওপর।’
‘সহিংসতায় আ.লীগ’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের শেষভাগে এসে ৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা হয়েছে সেখানে চার জনতে হত্যা ও চার জনকে ধর্ষণের গুজব ছড়িয়ে। আর এরপরই দৃশ্যপটে আসে হেলমেটধারীরা। হয় সহিংসতা।
আর এই গুজবের পাশাপাশি সহিংসতার পেছনেও বিএনপি দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল কাদের।

এর জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, এসব আক্রমণ নাকি বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা করেছেন। এ দেশের এমন কোনো পাগলও নেই যে তারা বিশ্বাস করবে পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মারপিট করবে, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে আর তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না।’

‘বিএনপিকে আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে সরকারি অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দৈনিক জনকণ্ঠে তিন বছর আগের একটি ছবি ছাপিয়ে জনমত বিভ্রান্ত করার জন্য পত্রিকাটি ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এতে সরকার ও তার সমর্থকদের থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে।’
‘ওই আন্দোলনে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার সাথে বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ জড়িত।’

‘সরকার দলীয় সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে পেশিশক্তি দিয়ে দমনের চেষ্টা করেছে।’
‘সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর অমানবিক ও বর্বোরোচিত হামলা চালিয়েছে।’
সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, বিএনপিসহ আন্দোলনে সমর্থনকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে লক্ষ্য বস্তু বানিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট কায়দায়’ নিপীড়ন করেছে বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে। জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। তার সুচিকিৎসা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা চালিয়েও নিজেদের নিরাপদ বোধ করছে না। সম্পূর্ণ হাস্যকর ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে।’
এর সবই পুনরায় ‘একদলীয় স্বৈরশাসন’ কায়েমে সরকারি ‘নীল নকশা বাস্তবায়নের’ অংশ বলেও মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।
এই আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

সড়ক পরিবহন আইনের যে খসড়ায় সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সেটি অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেছেন, ‘এই আইনে নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না।’
‘মন্ত্রিসভা সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে।’

print

LEAVE A REPLY