অতি প্রবল রূপে ইয়াস, ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

0 ৩৬

অবশেষে সব পূর্বাভাস সত্যি করে দিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলো ইয়াস। আবহাওয়াবিদরা ক’দিন ধরেই বলে আসছিলেন, মঙ্গলবার (২৫ মে) রাতে ভয়ঙ্ককর রূপ ধারণ করবে সামুদ্রিক এ ঝড়টি।

ইয়াসের এই রূপে সাগর খুব বিক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। ফলে উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে তোলা হয়েছে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত।

ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার (২৬ মে) সকালের দিকে এটি উড়িশার ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানবে। সে সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ হবে ১৮৫ কিলোমিটান পর্যন্ত। এদিন দুপুরের দিকে উড়িশার প্যারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝামাঝি বালাসোরের কোনো এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগে উঠে আসবে।

ভারতের ঝড়টি সরাসরি আঘাত করলেও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে থাকবে প্রভাব। এতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ০৬ টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৬ ফুট উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উপকূলের অনেক এলাকায় বাঁধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ইয়াসের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরেও ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কক্সবাজার, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড় বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ইয়াস নামটি দিয়েছে ওমান, এটি একটি পার্সিয়ান শব্দ। ইংরেজি জেসমিন আর বাংলায় জুঁই ফুল বলা হয় একে।

উৎসঃ   বাংলানিউজ
Comments
Loading...