আমার বাবাটাকে কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে!

0 ৫৯

দুই দিন ধরে ফোন না পেয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে এসে ফতুল্লায় এক মা তার ছেলের বিকৃত লাশ শনাক্ত করেছেন। ঝোপঝাড়ে গিয়ে ছেলের লাশ দেখে আর্তনাদ করে রাশেদা বেগম বলেন, আমার বাবাটাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বস্তায় ভরে কী নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আল্লাহ যারা আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে তুমিই তাদের বিচার কইরো।

বুধবার দুপুরে ফতুল্লার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় আসলামের গরুর ফার্মের পেছনের ঝোপঝাড় থেকে আমির হামজা (২৪) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

নিহত আমির হামজা টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার দাইন্না চৌধুরী পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল খালেক মিয়া ও রাশেদা বেগমের বড় ছেলে। তিনি ফতুল্লার শাসনগাঁও আছিমতলা এলাকার মামুন ভিলায় মেসে ভাড়া থেকে একটি কারখানায় কাজ করতেন।

আমির হামজার মা রাশেদা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে আমির হামজাই বড়। সন্তানদের ছোট রেখে তাদের বাবা মারা গেছেন। কোনোমতে তাদের লালন-পালন করে বড় করেছি। প্রায় এক বছর হয় আমির হামজা ফতুল্লায় এসে চাকরি নিয়ে সংসারের হাল ধরেছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো সময় ফোন করে বাড়ির সবার খোঁজখবর নিত। দুই দিন হয়েছে তার কোনো খোঁজখবর নেই, ফোনও করে না। তাই মনটা ধড়ফড় করছিল।

তিনি বলেন, এজন্য ছোটভাই মাজেদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সকালে টাঙ্গাইল থেকে ফতুল্লায় এসে আমির হামজার মেসে যাই তার খোঁজে। গিয়ে শুনি দুই দিন ধরে আমির হামজা মেসে নেই। তখন ফতুল্লা থানায় গিয়ে জিডি করি। এর মধ্যে শুনি আমির হামজার মেসের কাছে একটি লাশ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে দেখি আমার বাবাটাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বস্তায় ভরে কী নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আল্লাহ যারা আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে তুমিই তাদের বিচার কইরো।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, নিহতের পরনে ছিল ব্লু রঙের জিন্স ফুল প্যান্ট ও টিশার্ট। গলায় নতুন গামছা বাঁধা ছিল। দুর্বৃত্তরা যুবককে হাত-পা ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুতই হত্যার রহস্যা উদঘাটন করতে পারব এবং হত্যাকারীদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব। এ বিষয়ে নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করবেন।

উৎসঃ   যুগান্তর
Comments
Loading...