করোনা নিয়ে উৎকণ্ঠা: সিলেটে ৫ মৃত্যু হাসপাতালে চাপ

0 ৬০

সিলেটে করোনায় ফের মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে। গতকাল একদিনে করোনায় মারা গেছেন ৫ জন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০০ জন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা একশ’র কাছাকাছি। করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সিলেটে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে ঢিমেতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যে হারে সিরিয়াস রোগী বাড়ছে, মৃত্যুর মিছিল কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা মুশকিল। রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতালেও জায়গা হবে না। এদিকে গতকাল সকালে সিলেটের দোকান মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে রাত ৮টায় নগরীর সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হবে। জেলার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ছাড়াও আরো দুটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এটিকে তারা বিশ্লেষণ করছেন নানাভাবে। কেউ কেউ বলছেন- মার্চের শেষ সপ্তাহে এসে করোনা বেড়ে যাওয়া অশনি সংকেত। হঠাৎ করেই বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। ধারণা করা হচ্ছে- খুব দ্রুত সিলেটে ছড়াচ্ছে করোনা। এই করোনার শক্তিও কয়েকগুণ বেশি। আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একশ’র কাছাকাছি। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগীরই আইসিইউ প্রয়োজন। কিন্তু আইসিইউ মিলছে না। সিরিয়াস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ- পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন, শামসুদ্দিন হাসপাতালে এখনো আরো কিছু রোগী ভর্তি করা যাবে। যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তাহলে রোগীর জায়গা হবে না। তখন বিকল্প ভাবতে হবে। খুব সিরিয়াস ছাড়া রোগীদের আইসিইউ সাপোর্টে নেয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের তথ্য মতে- গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ১০০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৬ জন। সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের ৪ জন ও হবিগঞ্জের ১ জন। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৪৯১ জন। এ ছাড়া করোনা  থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ১৮১ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১০ হাজার ৮০২ জন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৫৯৪ জন, হবিগঞ্জে ২ হাজার ৫৬ জন ও মৌলভীবাজারে ২ হাজার ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে- গতকাল সিলেটের দোকান মালিকদের নিয়ে সভা করেছেন জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম। ওই বৈঠকেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ছিলেন। বৈঠকে করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর রাত ৮টা থেকে নগরীর দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর দিনে যতক্ষণ দোকানপাট খোলা থাকবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দেয়া হয়েছে। মাস্ক পরতে বলা হয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে। তবে এখনো সিলেটের পর্যটন এলাকা বন্ধ করা হয়নি। সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সিলেটে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচারণা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন- সিলেটে মাস্ক পরলে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চললে করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এদিকে যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সরকারের নির্দেশ মতো ভাড়া আদায় করলেও পরিবহন শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করছেন না। সিলেট থেকে দূরপাল্লার এসি ভলবো বাসগুলোতে কেবল স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। অন্য কোনো পরিবহনে কোনো বিধিই মানা হচ্ছে না। সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে সকল পরিবহন চালকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি মনিটরিং করা হবে বলে জানান তিনি।

সিলেটে এলেন আরো ৮৩ যুক্তরাজ্য প্রবাসী: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সিলেটে এসেছেন আরো ৮৩ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তারা সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আসেন। এরপর তাদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল যাত্রীকে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক  কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে হোটেল অনুরাগে ১১ জন, হোটেল নূরজাহানে ৬ জন,  হোটেল হলিগেটে ১৭ জন,  হোটেল হলি সাইডে ৩ জন, হোটেল  স্টার প্যাসিফিকে ১ জন, হোটেল  লা রোজে ১৭ জন, হোটেল লা ভিস্তায় ৮ জন, হোটেল  রেইন বো গেস্ট হাউজে ১০ জন ও রয়েল প্লামে আরো ১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসারে আগত প্রবাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক  কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

mzamin

Comments
Loading...