কিছু ছবি, ভাইরাল, ট্রল ও কিছু কথা!

0 ৭৮

গত কয়েকদিনে ঢাকা ছাড়তে ফেরীঘাটে ফেরীতে ওঠা নিয়ে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। করোনাকালীন লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষের ঈদ করতে বাড়ি ফেরা ও সাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করাই এ ছবি গুলির মূল ক্যাপশন।
.
কেউ কেউ আবার এসকল মানুষকে অশিক্ষিত ও গরীবের ঈদ বিলাস বলেও ট্রল করেছেন। কমান্ডো, যুদ্ধের মহড়া, করোনার সাপ্লায়ার সহ নানাবিধ মজা ও খোঁচা দিয়েছেন।
.
আসলে যারা পরিস্থিতির স্বীকার নন, তাদের কাছে এসবের মুল্য কীইবা থাকতে পারে। যাত্রাপথে তারা অসচেতন ও জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন এ কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু তারা এত ঝুঁকি নিচ্ছেন কেনো তাকি অনুভব করেছি?
.
যে মানুষটি ঢাকায় রাজমিস্ত্রী, কন্ট্রাক্ট শ্রমিক, দিন মজুর, চুক্তি ভিত্তিক প্রজেক্ট শ্রমজীবী, রিজেক্ট শ্রমিক, আয় কমে যাওয়ায় দিশেহারা পরিবার, হাউজ টিউটর, গৃহকর্মী অথবা এমন মানুষ কাজ না থাকলে যাদের ঢাকায় থাকার ঠাঁই নেই তাদের অবস্থা ভেবেছেন? কেনো এত রিস্ক নিচ্ছে তলিয়ে দেখেছেন?
.
এমন লাখ লাখ মানুষ আছেন কামায় রুজি দিয়ে খেয়েপরে দিন চলে যায়। ঈদের সময় সাত আট দিন কামায় না থাকলে রাস্তায় থাকতে হবে। আমি নিজে জানি- জমা, রিকশা চার্জ, ম্যাস খরচের প্যাকেজে থাকেন ঢাকায়, এখন ম্যাস বন্ধ, রিকশার জমার টাকাও ওঠেনা! থাকবে কোথায়? ঝুলে ঝুলে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার মর্মার্থ তিনিই জানেন! অন্তত গ্রামে গিয়ে থাকার খরচ তারকাছেতো কেউ চাইবেনা!
.
তাই বলছি সচেতন হতে হবে, জীবনের মুল্য বুঝতে হবে, করোনার ছড়ানো প্রতিরোধে উদ্যোগ নিতে হবে এটি খুব জরুরী। আমাদের অনেকের খাম খেয়ালি আছে এটিও স্বীকার করতে হবে, কিন্তু আগ-পিছ না ভেবে গরীবকে নিয়ে ট্রল করা আর নিউজের মূল ফোকাস ঝোলাঝুলির ছবি না বানিয়ে তার কারণ অনুসন্ধান ও সমাধান বের করাও আমাদের দায়িত্ব।
.
কিছু করতে না পারলে অন্তত “ট্রল” করা আর মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে মজা করা ছেড়ে দিন।

মাওলানা আব্দুল হাই মোঃ সাইফুল্লাহ ফেসবুক থেকে

Comments
Loading...