কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা আজ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন: ডা. জাফরুল্লাহ

0 ৪৬

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দেশের কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা আজকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাঁশখালীর শ্রমিক হত্যাকাণ্ড তো একটি মাত্র ঘটনা। এ চিত্র আমরা আগেও দেখছি। আবার পুনরায় দেখতে গিয়েছিলাম।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডি নগর হাসপাতালে ‘বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নাগরিক সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা’য় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, জনগণ যখন কথা বলতে পারে না, তখন এটি প্রমাণিত হয় যে, আমাদের উন্নতি কোন পর্যায়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী আপনার পিতার হত্যার ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কিন্তু সেই হত্যার পেছনে একটি ঘটনা দায়ী ছিল। ১৯৭৪ সালের অনাহারে দেশে তিন লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এখন বাংলাদেশে অনাহারী নেই, কিন্তু কৃষক-শ্রমিক অর্ধাহারে আছেন।

তিনি বলেন, তারা (শ্রমিক) ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য সামান্য মাত্র দুই ঘণ্টা কম পরিশ্রম করার দাবি করেছিলেন। তাও আবার রোজার দিনে। তারা বেতনও বাড়াতে বলেননি। দুই ঘণ্টা বিশ্রাম চাওয়ায় তাদের জীবন একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছে। এটাই আমরা দেখেছি।

বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ পাওয়ার জন্য শ্রমিকদের পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে দাবি করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে এখন এমন কোনো কাজ নেই যা ঘুষ ছাড়া হয়।

তিনি বলেন, সেখানকার শ্রমিক ও মানুষ আমাকে একবারও বলেননি কারা শ্রমিকদের মেরেছে। পুলিশ মেরেছে নাকি তাদের সঙ্গে থাকা সরকারের গুন্ডাবাহিনী মেরেছে। তবে মেরেছে, গুলি শ্রমিকের এক পাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে সবার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ। কেউ কথা বলতে পারছেন না। পুলিশও না। মিথ্যাচার আজকে আমাদের ধর্ম হয়ে গেছে। আজকে সেই জন্য আমরা প্রথমে দাবি করেছি, একজন নিরপেক্ষ সাহসী বিচারপতিকে দিয়ে শ্রমিক হত্যার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা হোক।

এসময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রথমত ২০১৬ সালে এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর স্থানীদের বিক্ষোভ হয়েছিল। কেন হয়েছিল? তখন সরকার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এখানে একটি শিল্প কারখানা করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র যে করা হবে, তা গোপন রাখা হয়েছিল। মিথ্যাচার ও প্রতারণার মধ্যে দিয়ে এটি করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এসময় অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আহত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করে হয়রানি করছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি পুলিশের সঙ্গে সরকারি দলের গুন্ডাবাহিনী থাকে, তাহলে আর এই রাষ্ট্রে কী থাকে?

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, যে শ্রমিকরা মারা গেছেন, তাদের বয়স ২০ থেকে ২২ বছর হবে। তারা আরও ৩০ বছর কাজ করতে পারতেন। সেই হিসাব করে তাদের সারাজীবনের আয়ের দ্বিগুণ অর্থাৎ কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ড রেজা কিবরিয়া, বেলার নির্বাহী পরিচালক প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আলোকচিত্রী শহিদুল হক, নুরুলহক নুর প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডিয়া উপদেষ্ঠা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

শীর্ষনিউজ

Comments
Loading...