ঢাকা ওয়াসায় সামান্য দুর্নীতি হলে সহ্য করা হয় না: ওয়াসা এমডি

0 ১২
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছেন, আমরা ঢাকা শহরের মানুষের জন্য পানি ব্যবস্থার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারছি। সে অবস্থায় আমরা পৌঁছে গেছি। এখন মেজর কোনো সমস্যা নেই। তবে কিছু মাইনর সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সোমবার ওয়াসা ভবনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ডুরা) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তাকসিম এ খান বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি গণমুখী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। প্রধানমন্ত্রীও চান চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট। আমরা আশা করছি কিছুটা পরিবর্তন করতে।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে- গতানুগতিক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে একটি পরিবর্তন আনা। আমরা একে ডিজিটাল করতে চাই। এটা করতে পেরেছি। আমাদের প্রায় সব কাজ এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। আমরা যা করতে পেরেছি তা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও করতে পারেনি।

তাকসিম বলেন, আমাদের কোনো কিছুই গোপনীয়তা নেই। ঢাকা ওয়াসার কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে ভুল হতেই পারে। ভুলের মাধ্যমে লসও হতে পারে। কিন্তু সামান্য দুর্নীতি হলে সহ্য করা হয় না। এটা বলতে পারি আমাদের যে সিস্টেম রয়েছে তাতে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের এন্ট্রি করাপশন ইউনিট রয়েছে। অনেকে শাস্তিও পেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রিসার্স এবং উন্নয়নে অনেক টাকা ব্যয় করি এবং করছি। এতে আমরা অনেক সফলও হয়েছি। যে কারণে ঢাকা ওয়াসা এখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে রোল মডেল। নেপাল তাদের পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ওয়াসা থেকে টিম নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক সময় পানির জন্য কলসি মিছিল হতো। সেনাবাহিনী দিয়ে পাম্প পাহারা দেয়া লাগতো। এখন এসব নেই। সবার ঘরে ঘরে পানি পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা সব সিস্টেম ডিজিটাল করেছি। কোনো ঠিকাদারকে বিলের জন্য আসতে হয় না। পেনশনের জন্যও কাউকে আর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওয়াসা ভবনে আসা লাগে না। সব বিল ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। আমাদের ওয়াসার কোনো কাজে চেকের কোনো ব্যবহার নেই।

সভায় ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) একেএম সহিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের অনেক কিছুর প্রচার নেই। আমাদের অনেক ভালো কাজ রয়েছে। সেবা সহজিকরণ করতে আমরা নাগরিকদের জন্য হটলাইন নাম্বার চালু করেছি। যেখানে যে কোনো অভিযোগ করা যাচ্ছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করি। পানির দুর্গন্ধ বিষয়ে তিনি বলেন, শীতকালে শীতলক্ষার পানি একেবারেই আলকাতরার মতো কালো হয়ে যায়। সেই পানিকে শোধন করে আমরা বিশুদ্ধ করে সরবরাহ করে থাকি। সেই দুষণের দায় দায়িত্ব তো আমাদের না। তার পরেও আমরা চেষ্টা করে একে ট্রিটমেন্ট দিয়ে বিশুদ্ধ করছি। আগে এমোনিয়া বেশি আসতো। এখন আমরা কিছু গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের লাইনে বিশুদ্ধ পানি থাকে। কিন্তু সেই পানি বাসার ট্যাঙ্কি বা রিজার্ভারে গিয়ে নষ্ট হয়। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পানির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করে না। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে খোঁড়াখুড়ির কারণে পাইপ লিকেজ হয়ে যায়। তবে এখন আর পাইপ লিকেজ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আমরা অনেক উন্নতমানে পাইপ বসিয়েছি। আমরা লাইনের পানি টেস্ট করে দেখাতে পারবো আমাদের পানি বিশুদ্ধ। কিন্তু এটার গ্যারান্টি দেয়া যাবে না, কারণ যে কোনও মূহূর্তে লাইনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডুরা সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহেদ শফিকসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।

Comments
Loading...