পুলিশের উপস্থিতিতে তুলে নিয়ে যাওয়া আইডিয়ালের ছাত্র ৫ ঘণ্টা পর ছাড়া পেলেন

0 ১৬

হাফ পাসের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়

হাফ পাসের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়ছবি: প্রথম আলো

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দেনদরবার শেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আইডিয়াল কলেজের ছাত্র ছাড়া পেয়েছেন। হাফ পাসের (অর্ধেক ভাড়া) দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজকের কর্মসূচি সেরে ফেরার সময় অতর্কিত দুই দল ছাত্রের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে আইডিয়াল কলেজের ওই ছাত্রকে ধরে নিয়ে যান ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্র।

পুলিশের নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহেন শাহ মাহমুদ প্রথম আলোকে আটকে থাকা ছাত্রের মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আইডিয়াল কলেজের ১১ জন শিক্ষকের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকারের সঙ্গে দেখা করেন। সেলিম উল্লাহ খন্দকার অবশ্য কোনো ছাত্রকে আটকে রাখা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব দেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না, কোনো ছাত্র এখানে আছে কি না। আমার সামনে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষকেরা আছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা আছে। তারা বলছে, তাদের একটা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।’

তবে আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ জসিমউদ্দীন আহমেদ সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে জানান, তাঁরা ছাত্রটিকে ফিরিয়ে এনেছেন।

নাম প্রকাশ করার না শর্তে একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, ছেলেটি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আজ মঙ্গলবার তাঁর পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ঢাকা কলেজে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর একার পক্ষে কোনো অবস্থাতেই মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা সম্ভব নয়। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করতে বেশ কয়েকজন মানুষ লাগে। তাঁদের বাদ দিয়ে কেন এই ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়। অপর একটি সূত্র বলেছে, ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা প্রথম আলোকে বলেন, কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউমার্কেটের মোড় ঘুরে আবার সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত একটি মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই মিছিলে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে হামলা চালান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রথম দফা হামলার পর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে তাঁদের ওপর আরেক দফা হামলা করে ছাত্রলীগ। এই হামলার সময় রাস্তায় স্কুল-কলেজের পোশাক পরা সব শিক্ষার্থীকেই মারধর করা হয়৷ হামলার পর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা ঢাকা কলেজের ভেতরে চলে যান।

ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

উৎসঃ   প্রথমআলো
Comments
Loading...