বিশেষ অনুমতি নিয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরছেন যাত্রীরা

0 ৯৮

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার দুই দেশের মধ্যে স্থলপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত ১৪ দিন বন্ধ ঘোষণা করলেও বিশেষ ব্যবস্থায় দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভারতে আটকে পড়া ৪৪ জন বাংলাদেশি বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ১৪ জন ভারতীয় যাত্রী।

জানা যায়, করোনা সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থলপথে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে বাংলাদেশি দূতাবাসের ছাড়পত্র থাকলে আসা যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সোমবার সকাল থেকে দিনভর কোনো যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে না পারলেও সন্ধ্যায় ছয় বাংলাদেশি প্রবেশ করে।

এছাড়াও মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টা পর্যন্ত আরও ৪৪ জন প্রবেশ করে। ফেরত আসা ৪৪ বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশন অফিসে কর্মরত ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং একজন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়। বাকিরা সবাই সাধারণ যাত্রী, যাদের বেশিরভাগ গিয়েছিলেন চিকিৎসায়।

এদিকে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দেরও দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে একটি ওয়েবসাইটে নির্দেশনা দেয় ভারতীয় দূতাবাস। এতে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশে ফেরার অনুমতিও পায়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ জন। এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ১৪ জন ভারতীয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত খরচে ১৪ দিন বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এদিকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের আরটি পিসিআর ল্যাবের করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেও তাদের বর্তমান শর্ত মানতে ১৪ দিন আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে ব্যক্তিগত খরচে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

ভারতফেরত যাত্রীরা জানান, তারা বেশিরভাগ চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আটকা পড়েন। পরে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার অফিসে আবেদন করে ছাড়পত্র নিয়ে তারা দেশে ফিরেছেন। তবে বাংলাদেশে আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন তাদের জন্য একদিকে যেমন অনিরাপদ তেমনি ব্যয়বহুল। প্রতিদিন রুম ভাড়া বাবদ ৫শ থেকে ১ হাজার গুনতে হবে। খাওয়াসহ অনান্য খরচ তো আছে। এছাড়াও চিকিৎসাসেবার সুযোগ সেখানে নেই। কীভাবে অসুস্থ্য পরিবার নিয়ে থাকবেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার দাবি জানান যাত্রীরা।

এদিকে সরকারের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াততে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলেও দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক রয়েছে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকার ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭৯ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী দেশে ফিরতে কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেছেন। গত দুই দিনে ফিরেছেন ৪৪ জন। বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকরা ভারতীয় হাইকমিশনার বরাবর আবেদন করে দেশে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন ৫৮ জন। সকাল থেকে ভারতে ফিরেছেন ১৪ জন।

ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত খরচে ১৪ দিন বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। একজন ভারত ফেরত করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশিকে যশোর সদর হাসপাতালে রেড জোনে নেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবীব বলেন, বাংলাদেশি উপহাইকমিশনারের ছাড়পত্র থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের কিছু ফেরার সুযোগ পেয়েছে। তবে নতুন করে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

শীর্ষনিউজ

Comments
Loading...