বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

আগাম প্রস্তুতিই ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের রক্ষাকবচ

0 ২৬

সম্প্রতি সিলেটে উপর্যুপরি কয়েক দফা ভূমিকম্প হওয়ার পর দেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

আর তা যদি হয়, তাহলে ঢাকা মহানগরীতে ১ থেকে ২ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। উল্লেখ করা যেতে পারে-ইন্ডিয়ান, ইউরোশিয়ান ও বার্মিজ-এই তিন গতিশীল প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে সিলেট, যার উত্তরে ডাউকি ফল্ট। এই প্লেটগুলো সক্রিয় থাকায় এবং পরস্পর পরস্পরের দিকে ধাবমান হওয়ায় সেখানে প্রচুর শক্তি জমা হচ্ছে আর জমে থাকা এসব শক্তি যে কোনো সময় ভূমিকম্পের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। ফলে অতিমাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? ভূমিকম্প হলো পূর্বাভাসবিহীন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

সেক্ষেত্রে পূর্বপ্রস্তুতিই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। ভূমিকম্প মোকাবিলার যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জাপানের মতো দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সে তুলনায় আমাদের প্রস্তুতি ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য অতি নগণ্য।

কাজেই বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে আমাদের কী অবস্থা হবে, তা ভাবতে গেলে গা শিউরে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকাসহ অন্য শহরগুলোর অধিকাংশ বাড়িঘর-স্থাপনা ধসে পড়বে।

এ অবস্থায় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য বিপদ ও ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। সবার আগে ভেঙে ফেলতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বিল্ডিং কোড না মেনে যেভাবে অপরিকল্পিত উপায়ে ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়েছে, তাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও একটু বেশি সময় স্থায়ী হলে ঘটে যেতে পারে প্রলয়ংকরী ধ্বংসলীলা। কাজেই এ ব্যাপারে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

দ্বিতীয়ত, ভূমিকম্প মোকাবিলা করতে হলে দেশবাসীর মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মহড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ভূমিকম্পসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এখন থেমে আছে। এটি চলমান রাখতে হবে।

আর প্রতি বছরই মহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ভূমিকম্পে প্রাণহানি কেমন হতে পারে, রানা প্লাজা ধসের ঘটনা এর একটি বড় উদাহরণ। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য বিল্ডিং কোড মেনে সঠিক গ্রাউন্ড মোশন নিয়ে বিল্ডিং ডিজাইন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভূমিকম্পে বিল্ডিং ধসে পড়বে না। মোট কথা-প্রশিক্ষণ, মহড়া, ভূমিকম্পসহনীয় স্থাপনা-এসবই হচ্ছে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির রক্ষাকবচ।

jugantor

Comments
Loading...