ভারতীয় বাস গলার কাঁটা

0 ১১৪

গত ১০ বছরে এক হাজার ৫৫৮টি বাস যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে। এর মধ্যে ভারতে থেকে কেনা নিম্নমানের বাসগুলো এখন বিআরটিসি’র গলার কাঁটা। বর্তমানে বিআরটিসিতে দুই হাজার ১৫০টি বাস থাকলেও সেগুলোর সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেনা সংস্থাটি। এখনও পাঁচশ’র বেশি বাস অচল পড়ে আছে। বিআরটিসি’র ডিপোগুলো এখন ভারতীয় বাসের ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে ভারত থেকে নিম্নমানের বাস কেনা এবং অন্যদিকে, দুর্নীতি-অনিয়ম এই দুইয়ে মিলে বিআরটিসি’র বেহাল দশা বহুদিন ধরেই। বিআরটিসি’র অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ভারত থেকে নিম্নমানের বাস কেনা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন আপত্তিও জানিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কয়েক দফায় বাস ও ট্রাক কেনা হয় ভারত থেকেই। তবে আশার কথা হলো, এবার বিআরটিসির যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে কোরিয়া থেকে দুশ’ বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোরিয়া থেকে শুধু উন্নত মানের বাস কিনলেই হবে না, সেগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিআরটিসির বাস সার্ভিসকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এর অংশ হিসেবে নর্ডিক ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এনডিএফ) ঋণে ২০১০ সালে চীন থেকে কেনা হয় ২৭৫টি একতলা সিএনজিচালিত বাস। ২০১১ সালে কোরিয়ার ঋণে দেশটি থেকে কেনা হয় ১৫৫টি নন-এসি ও ১০০টি এসি একতলা সিএনজিচালিত বাস। আর ভারতের ঋণে ২০১২ সালে ২৯০টি দ্বিতল এবং ২০১৩ সালে ৫০টি আর্টিকুলেটেড ও ৮৮টি এসি বাস যুক্ত হয় বিআরটিসির বহরে। এই তিন দেশের বাসের মধ্যে ভারত থেকে আনা বাসগুলো সবচেয়ে নিম্নমানের। কয়েক দিন চলতে না চলতেই সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। বিকল হওয়া বাসগুলো মেরামতের নামে খরচ করা হয় অতিরিক্ত টাকা। এক পর্যায়ে সেগুলো আর সচল করতে না পারায় সেগুলো ফেলে রাখা হয় ডিপোতে। এভাবে ডিপোতে শত শত বাস জমতে থাকে। এক পর্যায়ে ডিপো হয়ে যায় ভারতীয় বাসের ডাম্পিং স্টেশনে। এতোকিছুর পরেও গত বছর ভারত থেকে আরও ৬০০ বাস কেনে বিআরটিসি। এর মধ্যে রয়েছে ৩০০টি দ্বিতল বাস, ১০০টি নন-এসি বাস, ১০০ সিটি বাস (এসি) ও ১০০ আন্তঃনগর বাস (এসি)। এই বাসগুলো দিয়ে গত বছর ঢাকায় বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে ধামমন্ডি ও উত্তরায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করে বিআরটিসি। শেষ পর্যন্ত বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বন্ধ করে দেয়া হয় চক্রাকার বাসের সবক’টি রুট। সূত্র জানায়, ঢাকা

Comments
Loading...