ভারত বাংলাদেশের কতটুকু বন্ধু

0 ৭৩

একটি কথা এখন বিশ্ব কূটনীতিতে প্রচলিত। ভারত যার বন্ধু তার শত্রুর দরকার হয় না। ভারত তার নিজের স্বার্থের জন্য সবকিছু করতে পারে। এই কথাগুলো বহু পুরনো, বহু প্রচলিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের দ্বৈত নীতি এবং প্রবঞ্চনামূলক কৌশল এই কথাগুলোকে আবার সামনে এনেছে। ক`দিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। বাংলাদেশ সফরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তিনি সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের উন্নতি-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। বাংলাদেশ উন্নতি করছে না অগ্রগতি করছে এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যখন একটি পাশের বড় দেশ বাংলাদেশের সত্যিকার চিত্রটা তুলে ধরে তখন আমরা মনে করি যে, একজন সুপ্রতিবেশি সুলভ আচরণ করছে ভারত। কারণ ভারত কোনো পাশের দেশের উন্নতিই সহ্য করতে পারে না। সেখানে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এসে যখন বাংলাদেশের অভিভূত উন্নয়ন নিয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন তখন এটি কতটা আসল এবং কতটা মেকি সেই প্রশ্ন অনেক কূটনীতিকের মধ্যেই এসেছিলো।

তবে নিঃসন্দেহে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সহায়তাকারী দেশ এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সহায়তাকারী এই দেশটির প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আসবে এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের, গর্বের এবং ভালোবাসার। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন ঠিক তার বিপরীত বক্তব্য দিলেন তার দ্বিতীয় ব্যক্তি, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির সাবেক সভাপতি অমিত শাহ। অমিত শাহ আনন্দবাজার পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য দিয়েছেন। যেটি আসলে অগ্রহণযোগ্য এবং ন্যূনতম কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। অমিত শাহ যে কথাগুলো বলেছেন তার সবগুলোই মিথ্যা। অমিত শাহ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ খেতে পায় না, তাই খাওয়ার জন্য ভারতে যায়। বিষয়টি যদি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য প্রাপ্তি ভারতের চেয়ে বেশি। ভারতের সব থেকে বেশি মানুষ অনাহারে থাকে। অমিত শাহ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের পাকা টয়লেট নেই, এটি অসত্য। বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের টয়লেট ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল এবং খারাপ।

অমিত শাহ`র এই বক্তব্যগুলোর পর একটি প্রশ্ন সকলের সামনে এসেছে যে, কার বক্তব্য তাহলে সত্য? নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য নাকি অমিত শাহ`র বক্তব্য? অমিত শাহ বাংলাদেশকে উপেক্ষা করেছেন, নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। এই অমিত শাহ`র বক্তব্য নিয়ে আমরা কথা বলতাম না কারণ, অমিত শাহ বলতে খুব একটা আগ্রহি ছিলাম না। কারণ অমিত শাহ একজন কট্টর মৌলবাদী। বাংলাদেশ যেমন জামায়াত বা হেফাজত, তাদের মতই একজন নেতা হলেন অমিত শাহ। অমিত শাহ`র সঙ্গে আসলে জুনায়েদ বাবুনগরীদের খুব একটা পার্থক্য নেই, তারা একই রকম। জনগণকে ধর্ম দিয়ে বিভক্তি করে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। কিন্তু অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে এবং দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কাজেই ভারতকে বলতে হবে যে ভারত আসলে বাংলাদেশের বন্ধু কিনা এবং অমিত শাহ`র বক্তব্য সঠিক কিনা।

বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে ভারত বাংলাদেশ থেকে শুধু নিতেই জানে কিন্তু বাংলাদেশের নূন্যতম ইস্যুগুলোর প্রতি সহানুভূতি দেখায় না। এখন পর্যন্ত ভারত তিস্তার পানি চুক্তি সম্পন্ন করেনি। এখন পর্যন্ত ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করেনি। এখন পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অথচ ভারত সবসময় কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ট্রানজিটসহ বিভিন্ন সুযো-সুবিধা নিচ্ছে। কাজেই অমিত শাহ`র এই বক্তব্যের পর ভারতকে প্রমাণ করতে হবে তারা বাংলাদেশের আদৌ বন্ধু কিনা, কতটুকু বন্ধু।

উৎসঃ   বাংলা ইনসাইডার
Comments
Loading...