মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের করুণ দশা> ধারদেনায় কিনছেন টিকিট

0

সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই ধারদেনা করে বিমানের টিকিট কেটে কর্মস্থলে পাড়ি জমাচ্ছেন। পরে তারা অতিরিক্ত দামের এই টিকিটের টাকা কিভাবে শোধ করবেন তা নিয়েও তারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে বিমানের টিকিটের মূল্যবৃদ্ধিতে ট্র্যাভেল এজেন্টদের একটি চিহ্নিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে আসছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশের (আটাব) বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু দিন আগেও যেখানে সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা, দুবাই, কাতার কুয়েতসহ অন্যান্য রুটে একজন যাত্রীর বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ ছিল ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে। এখন সেই টিকিটের মূল্য ৪ গুণ বেড়ে লাখ ছুয়েছে। তাও একটি টিকিট যেন সোনার হরিণ! চাইলেই কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না! মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে একটি টিকিটের দাম প্রায় লাখ টাকা হলেও এমিরেটসের মতো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যেকোনো যাত্রী ঢাকা থেকে আমেরিকা অথবা লন্ডনে মাত্র ৬৫-৭০ হাজার টাকায় টিকিট কিনে গন্তব্যে পাড়ি জমাতে পারছেন।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকার সুযোগে কিছু ট্র্যাভেল এজেন্সি এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে টিকিট ব্লকের জমাজমাট বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে ট্র্যাভেল এজেন্সি মালিকদের পক্ষ থেকেই। আর কয়েক দিন আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানের ফ্লাইটগুলোতে টিকিটের মূল্য কমিয়ে দেয়ার যে তথ্য সংবাদমাধ্যমকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করছেন কোনো কোনো ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক।গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৭টার দিকে প্যান ব্রাইট ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক হাব নেতা রুহুল আমিন মিন্টু নয়া দিগন্তকে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের টিকিটের দাম বাড়ার ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আগে সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের নামে (প্রতিষ্ঠান) টিকিট ব্লক করে ব্যবসা করত। এখন তারা কৌশল পাল্টে ভিন্ন নামে টিকিট ব্লক করছে। যে দিন ফ্লাইট ছাড়ার ডেট ঠিক থাকে, তার দুই দিন আগে তারা ওই ফ্লাইটের টিকিট ক্যানসেল করে নতুন নামে আবার টিকিট (পিয়েনার বানায়) কেটে ফেলে। এভাবে ট্র্যাভেল এজেন্সির একটি সিন্ডিকেট এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে যোগসাজশ করে বিদেশগামীদের অনেকটা জিম্মি করেছে। যার কারণে ২৫-৩০ হাজার টাকার টিকিটের দাম এখন লাখ টাকার উপরে হয়েছে। এই টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদেশগামী যাত্রীরা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এখন উপায় না পেয়ে ধারদেনা করে চাকরি বাঁচাতে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

nayadiganta

Comments
Loading...