রমজানের আগে আরেক দফা বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম

0 ১৪৩

রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রতি বছর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। সাধারণত দু-তিন সপ্তাহ আগে থেকেই বাজার চড়া হতে শুরু করে। এবার দুই মাস আগে থেকেই বাজার চড়া। রোজার মাস শুরু হচ্ছে চলতি সপ্তাহে। এ অবস্থায় রমজানের আগ মুহূর্তে আরেক দফা বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৩০-২৬০ টাকায়। গতকাল ৮০ টাকা বেড়ে সে মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০ টাকায়। আগের দিন সাদা কক মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৪০ টাকায়। গতকাল সাদা কক মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং ব্রয়লারের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। কারওয়ান বাজারের একজন ক্রেতা রেশমা হক বলেন, ‘এসেছিলাম সোনালি মুরগি কিনতে। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় সাদা কক মুরগি কিনেছি।’

এদিকে সকালে কারওয়ান বাজারে ক্রেতাসমাগম বাড়লেও জুমার পর থেকে ছিল অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। বিক্রেতারা বলছেন, লকডাউনের প্রভাবে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন এবং নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে বাজারে স্বাভাবিক ক্রেতা সমাগম কমেছে। ক্রেতা সমাগম না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবারের বাজারে প্রতি কেজি খোলা বেসনের মূল্য ছিল ৫৫-৬০ টাকা এবং প্যাকেটজাত বেসনের মূল্য ছিল ৯০ টাকা। শুক্রবার দুটোরই মূল্য বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে। বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল হাতে ভাজা খোলা মুড়ির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। তবে মেশিনে ভাজা খোলা মুড়ি ও প্যাকেটজাত মুড়ি আগের দামেই যথাক্রমে ৭০ ও ১২০-১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

খোলা চিনি কেজিপ্রতি ২ টাকা কমে ৬৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্যাকেটজাত ও লাল চিনির দর না বেড়ে ৭৫ ও ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, এলাচ ও শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে।

সবজির বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। সরবরাহ কম না থাকা সত্ত্বেও ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না। করলা, শসা, চিচিঙ্গা, কালো বেগুন প্রতি কেজির মূল্য ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। পেঁপে প্রতি কেজি ২০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবারের তুলনায় কাঁচামরিচ ও লেবুর দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু ২০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজারে চাল-ডাল-ছোলা ও তেলের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়েছে। প্রতি কেজি পাইজাম চালের দর ছিল ৫০-৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৩-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬৪ টাকা ও নাজিরশাইল ৬৫ টাকা। খোলা সুপার সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১২৫-১৩০ টাকা, পাম তেল ১১০-১১৫ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি পাঁচ লিটার ৬২৫-৬৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি ২৮-৩০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৪০ টাকা দরে হালি বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও কেজিপ্রতি ছোলা ৬৫-৬৮ টাকা, ডাবলি ৪৫ টাকা, বুটের ডাল ৭৫ টাকা, মুগডাল ১১০-১৪০ টাকা ও খেসারি ডাল ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রোজার অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের বিক্রি এবার কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। খেজুর বিক্রেতা আবদুল লতিফ বলেন, গত রমজানের তুলনায় এবারের খেজুরের দাম অনেক কম। আজওয়া খেজুর গত বছর ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার ৬০০ টাকা কেজি দরেও মানুষ কিনছে না। তিনি বলেন, মরিয়ম খেজুর ১ হাজার টাকা থেকে কমে এখন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু ক্রেতারা নিচ্ছেন না।

এদিকে ক্রেতারা বলছেন, সাধারণ মানুষ যেসব খেজুর কিনে থাকে, সেগুলোর দাম কমেনি। আসছে রোজা উপলক্ষে দুই কেজি খেজুর কিনেছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সর্বনিম্ন খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। গত রোজায়ও ৮০ টাকা, ৯০ টাকা দিয়ে খেজুর কিনেছি। এর চেয়ে একটু দামি খেজুর ২০০ টাকা। সবাই তো এত দাম দিয়ে খেজুর কিনতে পারবে না।’

Comments
Loading...