রাজউকের শাহেনশাহ

0 ৮৯

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর প্লটের বাণিজ্য করে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির। প্রতিষ্ঠানটির গুলশান, বনানী, বারিধারা ও বাড্ডা প্রকল্পে তার কম করে হলেও তিন শতাধিক প্লট রয়েছে। সর্বশেষ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে দুইটি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন তিনি। একটি স্কুল ও অন্যটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য। রাজউকে তার রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। এ কারণে মনির রাজউকে শাহেনশাহ হিসাবে পরিচিত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তরার জমজম টাওয়ার-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির। এ টাওয়ারের মালিকানায় রয়েছে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের একটি বড় সিন্ডিকেট।মূলত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যের সুযোগ নিয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন মনির। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা তার কথায় উঠবস করেন। মন্ত্রণালয়ের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এর আগে জিকে শামীমের কথা সবাই জানেন। কিন্তু একটি বিশেষ এলাকায় বাড়ি হওয়ার কারণে চুক্তিভিত্তিক ওই কর্মকর্তাকে কেউ কিছু বলার সাহস পান না। এ ছাড়া রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলমসহ অন্তত ডজনখানেক কর্মকর্তা গোল্ডেন মনিরকে দেখলে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। রাজউকের এস্টেট-১ শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বাড্ডা প্রকল্পে গোল্ডেন মনির-এর শতাধিক প্লট রয়েছে। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে অনিয়মের অভিযোগে বাড্ডা প্রকল্পের প্লটগুলো বাতিল ঘোষণা করে সরকার। এ সুযোগ লুফে নেন গোল্ডেন মনির। তিনি কমদামে প্লটের মালিকদের প্লট কিনে নেন। এরপর মন্ত্রণালয়ে তদবির করেন। মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে বাতিল প্লটগুলো পুনর্বহাল করার ব্যবস্থা করেন গোল্ডেন মনির। এরপর রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি)-এর নেতৃত্বে পুনর্বহাল সংক্রান্ত কমিটি’র বৈঠকে শতাধিক প্লট জীবিত করার ব্যবস্থা করেন। এসব প্লট নামে-বেনামে গোল্ডেন মনির কিনে নিয়েছেন। এ ছাড়া রাজউকের বাড্ডা প্রকল্পের বেশির ভাগ প্লটের মালিক গোল্ডেন মনির। এ ছাড়া বারিধারায় তার কার সিলেকশনসহ তিনটি গাড়ির শোরুম রয়েছে। এসব গাড়ির শোরুমে পাশাপাশি চারটি প্লটের মালিক তিনি। এসব প্রতিটি প্লটের মূল্য কম করে হলেও ২০ কোটি টাকা। রাজউকের এস্টেট-২ শাখা সূত্রে জানা গেছে, রাজউকের উত্তরায় ‘জমজম’ টাওয়ারের কাছে আরো তিনটি বড় প্লটের মালিক গোল্ডেন মনির ও তার সিন্ডিকেট। এসব প্লটেও টাওয়ার বানানোর চিন্তা ভাবনা করছিলেন গোল্ডেন মনির। তবে রাজউক বহুমুখী সমবায় সমিতি’র কাছ থেকে একটি ১০ বিঘা আয়তনের প্লট নিয়েছেন গোল্ডেন মনির। এ বড় প্লটটির সাইনিং মানি দিয়েছেন ৫০ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে রাজউক সমবায় সমিতির জায়গায় ভবন নির্মাণে দেরি করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সিরাজ মেমোরিয়াল নামে তার বাবার নামে একটি স্কুল এবং গ্ল্যানিকেনস হাসপাতাল নির্মাণের প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন তিনি। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ নেয়ার ক্ষেত্রে এ শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প শাখার কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একই এলাকার হওয়ার কারণে তারাই মূলত গোল্ডেন মনিরকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।     

mzamin

Comments
Loading...