‘লাখ লাখ টাকা দিয়েও’ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম নেই তাদের

0 ১২৭

মহান স্বাধীনতার মাসে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কাফনের কাপড় পরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করেছেন। লাখ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক নামঞ্জুর এবং দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের তালিকায় নাম থাকা ও হয়রানির অভিযোগে ১৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধা মানববন্ধন করেন।

যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মুক্তিযোদ্ধাদের কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত তালিকায় রাখা না হয়, তাহলে তারা আত্মাহুতি দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামে নির্মিত হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি জাদুঘরের সামনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে এ মানববন্ধন।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সামচুল হক, সিরাজুল ইসলাম, মোমেনা বেগম, রমজান আলী, আব্দুল আজিজ, শেখ আব্দুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ দাড়িয়া বক্তব্য রাখেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল কালাম আজাদ দাড়িয়া বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের নামে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় নাম থাকা ৩৩৬ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের এ কমিটি একেকজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে দেড় থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। আমরা পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানাচ্ছি।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, যেহেতু এই যাচাই-বাছাইয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে তাই এ যাচাই-বাছাই বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কমিটির ৪ সদস্যকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এই ৫ লাখ টাকা দেওয়ার পরও আমার নামটি দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের তালিকায় রাখা হয়েছে। আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমি ভারত থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। আমার মতো এ ধরনের অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের তালিকায় রাখা হয়েছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত তালিকায় রাখা না হয়, তাহলে আমরা আত্মাহুতি দেব।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নামঞ্জুর এবং দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের তালিকায় নাম থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধারা আগামী ১ এপ্রিল জামুকায় আপিল করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এ উপজেলায় ৬৮২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণ করছেন। এই ৬৮২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে থেকে ৩৩৬ জনের যাচাই-বাছাই তালিকায় নাম আসে। এই ৩৩৬ বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ২৬৩ জনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কমিটি কর্তৃক ২৬ জন নামঞ্জুর, ১১৮ জন দ্বিধাবিভক্ত ও ১১৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত তালিকায় রাখা হয়। ৭৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অনুপস্থিত থাকায় কমিটি তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

চার সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ছিলেন জামুকার প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান। সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মাহফুজুর রহমান। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক সরদার ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান সরদার।

উৎসঃ   যুগান্তর
Comments
Loading...