শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: ৫ নারীর লাশ মিলল

0 ১১১

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে রাবিত আল হাসান নামে মুন্সিগঞ্জগামী একটি লঞ্চ প্রায় ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে শীতলক্ষ্যা নদীর চর সৈয়দপুর এলাকার ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।এর আগে বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। এসকে ৩ কোস্টার জাহাজের ধাক্কায় এটি ডুবে যায়।

বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, রাতে পাঁচ নারী যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।এ ছাড়া ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা লঞ্চ উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।পুলিশ ও নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে। শুরুতে ঝড়ের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয় বলে জানান ওসি।

এদিকে এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ২টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোববার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ উদ্ধারকাজের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযান চলবে।শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশের বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ ঘাট দিয়ে ১০ জন এবং পশ্চিম পাশের ঘাট দিয়ে আরও ১৬ জন জীবিত অবস্থায় তীরে উঠতে সক্ষম হন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

জেলা প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যেই ৫ জন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ভার নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ আরও জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহেরা খানম ববিকে প্রধান করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে নৌ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, দুর্ঘটনার কারণ উৎঘাটনে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করেছি। আমাদের কার্যক্রম চলছে।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের নিরাপত্তকর্মী মোহাম্মদ হালিম জানান, এসকেএল-৩ (এম: ০১২৬৪৩) নামের কোস্টার জাহাজটি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ
ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকের নাম আলাল হোসেন।তিনি মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান।তিনি বলেন, এই রুটে ২৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। আমাদের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর আয়তন ছোট। কোস্টার জাহাজগুলো এই রুটে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। বারবার বলার পরও তারা কোনো সমঝোতা করে চলাচল করে না। কোস্টার জাহাজগুলো যেন নিয়ম মেনে চলাচল করে এ দাবি জানান তিনি।

jugantor

Comments
Loading...