সম্পদের হিসাব জমা না দিতে আমলাদের নতুন অজুহাত

0 ১৬

কয়েক মাস আগে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিবে। এ সংক্রান্ত একটি আইন ছিল যা ১৯৭৯ সালে প্রণীত। এই আইনের আওতায় কয়েকবছর সম্পদের হিসাব দেওয়ার পর আমরা আর সম্পদের হিসাব দিচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সফর করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন যে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এরপর পরই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে করোনার প্রকোপ শুরু হলেই প্রধানমন্ত্রীর এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ভাটা পরে। বিশেষ করে এই সময় আমলারা পাদ-প্রদীপে চলে আসেন এবং তারাই সরকার পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কিন্তু করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পরপরই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের এই আইনটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সম্পদের হিসাব জমা দেননি।

সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া নিয়ে আমলাদের মধ্যে নানারকম গড়িমসি লক্ষ্য করা হচ্ছে। শুরু থেকেই তারা এটির বিরোধিতা করছে। এ নিয়ে কয়েকজন আমলা সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে দেন-দরবার, তদবিরও করেছেন। তারা বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে এটি দিলে নেতিবাচক ধারণা হবে এবং এটি সরকারের বিরুদ্ধেই যাবে। কিন্তু এসব শঙ্কাকে প্রধানমন্ত্রী পাত্তা দেননি। প্রধানমন্ত্রী আমলাদের সম্পদের হিসেব দেওয়ার বিষয়টিতে অনড় থাকেন। এখন আমলারা সম্পদের হিসাব দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। তারা বলছেন যে এই আইনটি ১৯৭৯ সালের আইন এবং জিয়াউর রহমান এ আইনটি প্রণয়ন করেছিলেন। জিয়াউর রহমান একজন অবৈধ স্বৈরশাসক ছিলেন কাজেই তার আইন এখনো বহাল রাখা উচিত নয়। তারা মনে করছেন যে যেহেতু বর্তমান সরকার জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সবসময় মনে করে যে জিয়াউর রহমান অবৈধ শাসক ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যোগসাজশ ছিল। কাজেই জিয়াউর রহমান এই আইন প্রণয়ন করেছে এই অজুহাত দেখিয়ে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চাইছে আমলারা।

আমলাদের মধ্যে অনেকেই এখন বলা শুরু করেছেন যে একজন অবৈধ শাসক আমলাদেরকে তাঁর পক্ষে আনার জন্য এবং আমলাদেরকে ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড করার জন্য এই আইনটি প্রণয়ন করেছে। গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এই আইনটি প্রণিধানযোগ্য নয় এবং এই আইনটি চলতে পারে না। আমলাদের পক্ষ থেকে এটাও বলা হচ্ছে যে এই আইনের মাধ্যমে এক ধরনের অবিশ্বাস এবং ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ রয়েছে। কারণ সরকারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কাজেই তাদেরকে যখন প্রচ্ছন্নভাবে দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত করা হয় তখন প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজের গতি নষ্ট হয়ে যায়। আর এ কারণেই তারা মনে করছেন যে একজন অবৈধ শাসকের আইন এখন কার্যকর করা উচিত না। আর এই অজুহাত দিয়েই তারা এখন সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা থেকে পার পেতে চাইছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উৎসঃ   বাংলা ইনসাইডার
Comments
Loading...