স্কুলের আলমারিতে কলম খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ২০০ ব্যালটের মুড়ি

0 ২৪

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বাঘমারা বড় দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলমারি থেকে সিলমারা ২০০ ব্যালট পেপারের মুড়িপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মুড়িগুলো ২১ জুন বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড নির্বাচনের ব্যালট বইয়ের অংশ বলে জানা গেছে।

রোববার ১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নাইটগার্ড মিন্টু বয়াতি আলমিরায় কলম খুঁজতে গিয়ে এগুলো খুঁজে পান।

মিন্টু বয়াতি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয় ১৮ মাস বন্ধ ছিল। আজ বিদ্যালয় খুলেছে। তবে এর মধ্যে গত ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছিল। শিক্ষকদের কলমের প্রয়োজন হলে আজ দুপুরে আলমিরা খুলে খুঁজছিলাম। এ সময় ব্যালট পেপারের মুড়িগুলো পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানাই।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, স্টিলের আলমারি থেকে ব্যালটের পেপারের ২০০ মুড়ি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বান্ডিলে ইউপি নির্বাচনের সাধারণ সদস্য (পুরুষ মেম্বার) পদের প্রতীকের ১০০টি এবং অন্য বান্ডিলে সংরক্ষিত সদস্য (নারী মেম্বার) পদের প্রতীকের ১০০টি মুড়ি রয়েছে। এগুলোতে সিল ও টিপসই থাকলেও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সই নেই।

তিনি আরও জানান, দুটি বান্ডিলের শেষের দুটি পাতার ব্যালট পেপার ছেঁড়া হয়নি। মুড়িগুলো খুঁজে পাওয়ার পর বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে।

বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া ইউপি সদস্য প্রার্থী খায়রুল আহসান খোকন বলেন, ২১ জুন নির্বাচনের শুরু পর থেকেই বড় দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়ম করা হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয়ী প্রার্থীদের পক্ষে গোপনে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তখন হয়তো তাড়াহুড়ো করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যালট পেপারের মুড়িগুলো আলমারিতে রেখেছেন।

পরাজিত সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থী শিপ্রা রানী জানান, বড় দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট কারচুপি করা হয়েছে। তখন অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এখন ব্যালটের মুড়িগুলো পাওয়ায় নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ার বিষয়টি সবার সামনে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।



নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, মেম্বার প্রতীকের দুই বান্ডিল ব্যালট পেপারের মুড়ি পাওয়ার বিষয়টি সন্ধ্যায় আমি শুনেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মুড়িপত্রগুলো খামে ভরার পর বস্তাবন্দি করে সিলগালা করা উচিত ছিল। প্রিসাইডিং অফিসার হয়তো ভুল করে তা করেননি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রথম ধাপে গত ২১ জুন গৌরনদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে বার্থীসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ কারণে বার্থী ইউনয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়নি। তবে সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার্থী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে সোবাহান হাওলাদার ও ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে (মেম্বার) শাহানাজ বেগম নির্বাচিত হন।

উৎসঃ   জাগোনিউজ
Comments
Loading...