হাসেম ফুড কারখানায় ছাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে পোড়া মানুষের হাড়

0 ১২৪

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে এখনো লাশের পোড়া গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার ভবনটির চারতলায় গিয়ে পুড়ে যাওয়া মানবদেহের উৎকট গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুড়ে যাওয়া মানুষের হাড়, কাপড়ের অংশ ও টিফিন বক্স পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার গত ৮ জুলাই হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহত হয় ৫৩ টি তাজা প্রাণ। অগ্নিকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টা পর আগুন নেভায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসেম ফুড কারখানা ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটির চারতলা থেকেই ৪৯ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই চারতলায় এখনো চারদিকে পোড়া লাশের বিকট গন্ধ। পড়ে থাকতে দেখা গেছে পোড়া লাশের কোমরের হাড় ও পাঁজরের হাড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া নারী শ্রমিকদের পড়নের সালওয়ারসহ বিভিন্ন কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কিছু কিছু স্থানে শ্রমিকদের পুড়ে যাওয়া টিফিন বক্স পড়ে রয়েছে। হয়তো শ্রমিকরা কাজে আসার সময় বাড়ি থেকে টিফিন বক্সে করে দুপুরের নিয়ে এসেছিলেন। কেউ হয়তো খেতে পেরেছিলেন, কেউ হয় ভেবেছিলেন বাড়ি গিয়ে খাবেন। সেই টিফিন বক্স নিয়ে আর ফেরা হয়নি বাড়ি ওদের।

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো রূপগঞ্জসহ সারা দেশ। অভিযোগ রয়েছে হাসেম ফুড কারখানার ওই ভবনটি নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি, ছিল না অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, ছিল না পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সিট পয়েন্ট। এসব কারণে অগ্নিকাণ্ডে এতগুলো মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় মালিকপক্ষের অবহেলা ছিল বলে রিমান্ডে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন।

উৎসঃ   দেশ রুপান্তর
Comments
Loading...