৪ বছরেও পিলারেই সীমাবদ্ধ ৩৫ কোটি টাকার ব্রিজ

0 ১০

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চান্দহর নদী পারাপারে জনগণের ভোগান্তির পালা আরও বেড়ে গেল। ওই নদীর ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটির কাজ দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ থাকায় অবশেষে চুক্তি বাতিল করেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন নির্মাণাধীন ব্রিজ সংলগ্ন প‍‍শ্চিম পাশের চান্দহর বাজারে কেনাকাটা করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, অসুস্থ রোগী এবং কৃষির উৎপাদিত পণ্য পারাপারেও চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভোগান্তি নিয়ে খেয়া ন‍ৌকার ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে পল্লি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চান্দহর নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজের কাজ পান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সে অনুযায়ী ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি দুবছর মেয়াদে শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল গত ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ব্রিজ নির্মাণস্থলে পল্টন আনা এবং বালুমাটির দর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চুক্তির সময়সীমার মধ্যে কাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দুদফায় কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। যার সর্বশেষ সময়সীমা ছিল ২০২১ সালের ৩০ জুন। দেখা গেছে এ সময়ের মধ্যে ব্রিজটি দৃশ্যমান দূরের কথা মোট কাজের অর্ধেকও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পিলারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে ব্রিজটির নির্মাণকাজ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশনের সাইট অফিসের সহকারী প্রকল্প প্রকৌশলী মো. মোহসীন বলেন, চান্দহর নদীটির প্রবেশ পথ পার্শ্ববর্তী ইটভাটা এলাকায় নদীর মুখ বন্ধ থাকায় ব্রিজ নির্মাণস্থলে পল্টন আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া সরকারি রেট অনুযায়ী বালু ধরা হয়েছে প্রতি ঘনফুট ৫ টাকা। অথচ এখানে খরচ পড়ে ১২ টাকা। কোনোভাবেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। আদৌ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ওই প্রকৌশলী।

এদিকে এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে পল্টন আনার জন্য চিঠি দেয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না করে বন্ধ রাখায় আমরা ব্রিজ নির্মাণের চুক্তিটি বাতিল করছি।

চুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বাদল বলেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার ও মানিকগঞ্জ-০২ আসনে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে দিয়ে বলা সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ব্রীজটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষ‍্যের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমে লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য চিঠি দিয়ে পল্টন আনার রিমেন্ডার দেয়াসহ দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। তাই চুক্তির বর্ধিত মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন পার হওয়ায় চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিমাণ এবং আর্থিক পাওনার হিসাবের কাজ চলছে। চুক্তি বাতিলের পর অবশিষ্ট‍ কাজ সমাপ্ত করার জন্য ব‍্যয় নির্ধারণ করে তা অনুমোদনের জন্য এলজিইডি দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উৎসঃ   দেশ রুপান্তর
Comments
Loading...