কেন আমি কাইন্দা বুক ভাসানো মুজিব প্রেমী থিকা আওয়ামী বিরোধী হইলাম?

0 ১০৮

আমি তখন স্কুলে পড়ি। শেখ মুজিব মারা গেছেন, জিয়ার আমল। আমার খালি বুক ভাইঙ্গা কান্না আসে শেখ মুজিবের লাইগ্যা। মনে হয় আহারে এমন একটা মানুষরে কেন মারলো? শেখ মুজিব আমার কাছে দেবতা। এর মধ্যে বগুড়া শহরে উত্তরা সিনেমা হলে ওরা এগারোজন আসছে। শুনলাম ওই সিনেমায় শেখ মুজিবের ভাষণ আছে সাতই মার্চের। আমার মামাতো ভাই আসছে বগুড়াতে সে তখন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আর মুজিববাদী ছাত্রলীগ করে। দুইজনে সিনেমা দেখতেছি। এমন সময় আইলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, সিনেমার পর্দায় শেখ মুজিব আঙ্গুল উচায়ে কইতেছে, আর যদি একটা গুলি চলে… আমি চিতকার দিয়া সিনেমার চেয়ারের উপ্রে লাফ দিয়া উঠলাম পাগলের মতো হাততালি দিতেছি আর গলা ফাটায়ে কইতেছি জয় বাংলা, আমার সাথে আমার মামাতো ভাই চিক্কুর দিয়া উঠলো জয় বঙ্গবন্ধু বইলা। বগুড়া শহর, সিনেমার আর সব মানুষ চুপ। খালি আমাগো ফিরা ফিরা দেখে।

যাই হোক, টু কাট লং স্টোরি শর্ট। আমি তো এই বৃহত্তর আওয়ামী বয়ানের লোকই ছিলাম। আমি পাড় সিপিবি ছিলাম। আমি ২০১৩ সালে কী লিখছি সেইটা দেখায়ে লাভ আছে? ২০০৮ সালে তো আওয়ামী লীগরে ভোট দিতে গেছিলাম। কেন্দ্র খুইজ্যা পাই নাই জন্য ভোট দিতে পারি নাই। কিন্তু ভোট দিতে পারলে আমি আওয়ামী লীগরেই দিতাম।

আমি শাহবাগেও গেছি।

আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ কায়েম না করলে আমি এই আওয়ামী বয়ানের মধ্যেই থাকতাম আজো। আজো আমি শেখ মুজিবের লাইগ্যা কাইন্দা বুক ভাসাইতাম আর সিপিবিই করতাম।

আমি যখন বুঝছি এই ফ্যাসিবাদ কায়েমের আমার ভুমিকা আছে। সেইদিন থিকা আমার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমার মনে হইছে আমার এই পাপ স্খালন করতে হবে। যেইটারে বলে প্রায়শ্চিত্ত। প্রায়শ্চিত্তের এই পথে আমি আমার দেশ হারাইছি, ক্যারিয়ার হারাইছি, নিজের ব্যবসা হারাইছি, বাবারে হারাইছি, শেষ দেখা দেখতে পারি নাই। রাষ্ট্রহীন রিফিউজি হইছি। এতে আমার কোন দুঃখ নাই। এইটা আমার প্রাপ্য ছিলো।

আমি কী লিখছিলাম ২০১৩ সালে সেইটা না দেখায়ে, এইটা দেখার চেষ্টা করো, কেন আমি কাইন্দা বুক ভাসানো মুজিব প্রেমী থিকা আওয়ামী বিরোধী হইলাম।

নিজের পাপের দিকে দেখো হে ফ্যাসিস্ট বাকশালি।

Comments
Loading...