ধর্মীয় অস্থিরাতায় রাজনৈতিক ফায়দা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

0 ৯১

লোকমান আহম্মদ আপন
সঠিক শিক্ষা আর জ্ঞানচর্চার অভাবে ধর্মান্ধতা তৈরী হয়।ধর্মান্ধতা অন্যায়, অনিয়ম আর অপরাধ বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মকেও করে প্রশ্নবিদ্ধ।বিশুদ্ধ সমাজ ব্যবস্থার জন্যে ধর্ম নয়, প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা আর সঠিক জ্ঞানচর্চা।সঠিক শিক্ষা আর জ্ঞান পেলে মানুষ শান্তিপুর্ণভাবে নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সঠিক সম্মান দিতে পারবে।উন্নত হয়ে উঠবে ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র।কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যবসায়ী আর ধর্ম ব্যবসায়ীরা তা হতে দেবে কেনো।অন্ধ মানুষের দেশই যে তাদের আখের গোছানোর বড় জায়গা।
বাংলাদেশে চলছে চরম অপশাসনের পাশাপাশি ধর্মের চরম অপব্যবহার, অপপ্রয়োগের যুগ।যে যেভাবে পারছে ধর্মের অপপ্রয়োগ আর অপব্যবহার করে যাচ্ছে।রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলসহ বিভিন্ন মতলবে তথাকথিত রাজনীতিবিদ, তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত মানুষ আর তথাকথিত মোল্লা মৌলানাদের দৌরাত্বে দেশ এখন এক অস্থির সময় পার করছে। ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার করে নিয়ে ইচ্ছেমত অপকর্ম আর দূষণ চলছে দেশে।ধর্মকে হাস্যরসের বিষয়ে রুপান্তর করে চরম অপমানজনক করে যাচ্ছে তথাকথিত কিছু মোল্লা মাওলানা। নিজের অজান্তেই তারা তাদের সাথে জুড়ে নেয়া টাইটেলগুলোকে জুতাপেটা করে যাচ্ছেন।এরা চরম আবাল বলে নিজেকে নিজে অপমান করার বিষয়টিও তাদের মাথায় ঢুকছে না।না ঢোকার কারণও তাদের সুশিক্ষা আর সঠিক জ্ঞানের অভাব।
সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এইসব আবাল মোল্লা মৌলানার ধর্মীয় বক্তৃতার নামে হাস্যরসাত্নক চটুল বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।আম জনতার অসুস্থ বিনোদনের খোরাকে পরিণত হচ্ছে।তথাকথিত ইসলামী বক্তা ও তথাকথিত স্কলারদের বক্তব্য শোনে সস্তা বিনোদনের আশায় বক্তৃতাস্থলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। উপস্থিত এসব মানুষের বেশিরভাগের নেই সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞান। যাদের বেশিরভাগ ধর্মান্ধতার অন্ধকারে নিমজ্জিত।এ জন্যেই ধর্মীয় প্রচার, প্রচারণা, ওয়াজ মাহফিলসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান মহামারি রকমভাবে বেড়ে গেলেও বাড়ছেনা সঠিক দীনের প্রচার।বাড়ছে না ধর্মের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা।সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত, সঠিক জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মানুষ ধর্মকে কিছূতেই অপমান করে না, অসম্মান করে না, বর্ং ধর্মের অসম্মানে ব্যথিত হয়।কিন্তু ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতার নামে যারা ধর্মকে হাস্যরস আর অপব্যখার নামে অপমান করে চলেছে তারা কিছুতেই ব্যথিত হয়না।
ক্রমবর্ধমান এই অস্থিরতায় রাষ্ট্রযন্ত্রের রয়েছে প্রকাশ্য মদদ।ক্ষমতায় আরোহন ও ঠিকে থাকার জন্যে রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা অদূরদর্শী এইসব মোল্লা মৌলানাদের ব্যবহার করে।আধুনিক ও সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হওয়ায় এসব বক্তারা সহজে রাজনৈতিক ট্র্যাপে পরিণত হোন।কিছু কিছু উচ্চ ডিগ্রিধারী মৌলানা আবার লোভের বশবতি হয়ে সরকারের চামচামী করে নিজের ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করেতে গিয়ে তৈরী করে ধর্মীয় বিভাজন ও অস্থিরতা।সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞানের অভাবে সাধরন মানুষ এই দুই পক্ষের কুট কৌশল ধরতে পারে না।তারা না জেনে বুঝে, অন্ধভাবে অথবা বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষাবলম্বন করে।ধর্মীয় অস্থিরাতাকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করে রাজনীতির ব্যবসায়ীরা। এতে ক্ষতি হয় ধর্মের, ক্ষতি হয় রাষ্ট্রের ও ক্ষতি হয় মানবতার।

লোকমান আহম্মদ আপন : লেখক ও সাংবাদিক।

Comments
Loading...