প্রহসনমূলক আরেকটি নির্বাচনী নাটক

0 ৯৪

গণতন্ত্রের লেবাসে অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী আর দাম্ভিক আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক নির্বাচনী প্রহসন করে যাচ্ছে। আপামর জনসাধারণের ভোটাধিকার হরণের পাশাপাশি করে যাচ্ছে দেশীয় সম্পদের অবৈধ শ্রাদ্ধ। আওয়ামী লীগরে অধীনে প্রতিটি নির্বাচনেই পুর্ব নির্ধারিত ফলাফলকে জায়েজ করার অবৈধ প্রচেষ্টায় যতো রকম দু’নাম্বারি আছে তার সবকিছুই করে যাচ্ছে নির্লজ্জ আওয়ামী লীগ সরকার এবং তার অনুগত প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। তার সর্বশেষ নমুনা পুরো বিশ্ব আবার দেখেছে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।দাম্ভিক আওয়ামী লীগ সরকার ভোটারবিহীন এই অস্বচ্ছ নির্বাচনকেও দেখছে নিজেদের বিশাল বিজয় হিসেবে। যা কিনা তাদের চরম লজ্জাহীনতাই প্রমাণ করে।
কিন্তা তাদের এই তথা্কথিত বিজয়কে বাংলাদেশের আপামর মানুষ এবং পুরো বিশ্ববাসী দেখছে একটি প্রহসন হিসেবে। এসব নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার পাশাপাশি হতাহত হচ্ছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার নিরীহ মানুষ। এবারের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমর্থকদের হামলায় মারাত্নক আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। আওয়ামী লীগের অধীনে সবগুলো স্থানীয় নির্বাচনসহ ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে দুটো প্রহসনমূলক সংসদ নির্বাচন দেখেছে বিশ্ববাসী। যে নির্বাচনগুলো করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেবার চেষ্টা করা, একশতভাগ স্বৈরাচারী সরকারকে গণতান্ত্রিক ফ্লেভার দেয়ার চেষ্টা করা।
প্রতিটি নির্বাচনের আগেই সরকারী সন্ত্রাসী বাহিনী বলে পরিচিত পুলিশ এবং আওয়ামী সমর্থক গোন্ডা সন্ত্রাসীরা প্রতিপক্ষের প্রার্থী-সমর্থকদের মিছিল মিটিংয়ে হামলা করে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরী করে রাখে। যাতে আওয়ামী প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিতে কেউ যেনো ভোটকেন্দ্রে যাবার সাহস না পায়। সরকারের আজ্ঞাবহ পুতুল নির্বাচন কমিশিনের কারণে ভোটের ফলাফল আগেই নির্ধারন হয়ে হয়ে যায়। সরকার এবং নির্বাচন কমিশরে এই দূরভিসন্ধির ব্যপারটা ভোটাররা জানে বলেই তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে চায়না। তারপরেও কিছু সাহসী ভোটার নিজের মহামূল্যবান ভোটের মর্যাদা রক্ষার জন্যে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যায় বটে। গিয়ে দেখে তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে, অথবা তার তথ্য মিলছে না, অথবা তাকে ফোর্স করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিতে। এসব সাহসী ভোটার সঠিকভাবে তাদের ভোট দিতে না পারলেও নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করে আসতে পারছেন আওয়ামী লীগের প্রহসনের নির্বাচনের নামে জনগণের মহামূল্যবান ভোটাধিবকার ডাকাতির বাস্তবচিত্র। এই ভয়াবহ চিত্র আরো ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হতো যদি সাংবাদিক আর নির্বাচনী পর্যপেক্ষকদেরকে নিরেপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেয় হতো।
হাস্যকার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ পুতুল নির্বাচন কমিশন লক্ষ লক্ষ ভোট কাষ্ট দেখিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। পুরো এই অবৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বৈধতার ফ্লেভার দেবার জন্যে প্রতিপক্ষের প্রার্থীদেরকেও অনেক ভোটপ্রাপ্তি দেখিয়ে দিয়েছে তারা। কী হাস্যকর! কী হাস্যকর!! শেখ হাসিনা সরকারের প্রযোজনায় এবং সরকারের হাতের পুতুল নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় মঞ্চস্থ হওয়া এসব প্রহসনমূলক নির্বাচন নাটকের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সৎ এবং সাহসী সাংবাদিকরা হচ্ছেন রক্তাক্ত।
বাংলাদেশের মুক্তমনা সাংবাদিকদের উপর আগে থেকেই বিভিন্নরকম মামলা হামলা দিয়ে নানা রকম হয়রানিতে রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা কিছু সংখ্যাক দালাল সাংবাকিদেককে অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশের পুরো সংবাদ ব্যবস্থাকে কঠিন সেন্সরশিপের মধ্যে রেখেছে। সরকারে রোষানলের ভয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগের দুর্ণীতির সঠিক তথ্য মিডিয়ায় তুলে ধরতে পারছেননা। এরপরেও কোন কোন সৎসাহসী সাংবাদিক সঠিক সাংবাদ সংগ্রহ করে আওয়ামী লীগ সরকারের মুখোশ উন্মোচন করতে চাইলে ভয়ানক হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন। এবারের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও সাংবাদিকদের তাজা রক্তে লাল হয়েছে। নির্বাচন পর্যপেক্ষক এবং বিদেশী কুটনীতিকদেরকে নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন রকম হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এতে করে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ ক্ষমতা আর দম্ভের জোরে প্রহসনমূলক নির্বাচন করে নিজেদেরকে বৈধ ভাবার একটি প্রহসন করে যাচ্ছে বারবার। কিন্তু বাংলাদেশের বিবেকবান প্রতিটি মানুষ আর বিশ্ববাসী ঠিকই জানে, এসব প্রহসনের আসল মানে হচ্ছে- আওয়ামী সরকার অগণতন্ত্রিক, স্বৈরাচারি আর অবৈধ।

লোকমান আহম্মদ আপন : লেখক সাংবাদিক। প্যারিস, ফ্রান্স।

Comments
Loading...