মুজিব বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধের কল্পিত গল্প

0 ১১২

দেশে থাকতে একটা বডি বিল্ডিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হইছিলাম। নাম জানতে চাইয়েন না তাইলে ওরা এখন বিপদে পড়বে। সেই ফাউন্ডেশনের আরেক মেম্বার ছিলেন ঢাকার একজন বয়স্ক আওয়ামী লীগ নেতা। উনার সাথে দেখা করতে গেছি। উনি উনার ভিজিটিং কার্ড আগায়ে দিলেন। লেখা আছে, “মুক্তিযোদ্ধা”।

আমি কার্ড হাতে নিয়া জিগাইলাম। আপনি কি মুজিব বাহিনীতে ছিলেন? সে বলে হ্যা ছিলাম। মাঠে মুক্তিযুদ্ধ করছেন? বলে হ্যা যশোর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করছি। আমি কপাল কুচকায়ে জিজ্ঞাসা করলাম, মুজিব বাহিনীতে গেরিলা ফাইট করছেন নাকি সেক্টরের নিয়মিত বাহিনীতে থাইক্যা যুদ্ধ করছেন? সে বলে ওই আমরা একসাথেই যুদ্ধ করছি। আমি বললাম, নিয়মিত বাহিনীর সাথে একসাথে করছেন? বলে হ্যা। আমি একটু হাইস্যা নিয়া জিগাই, কোন কোন অপারশনে ছিলেন? সে মোচরামুচরি করে। আমি আবারো জিগাই, কোন কোন অস্ত্রের ট্রেনিং ছিলো? কী অস্ত্র ব্যবহার করছেন? সে মনে হয় আমার প্রশ্নবানের মধ্যে অস্ত্রের কথা শুইন্যা হাফ ছাইড়া বাচলো। সে বলে এস এল আর ইউজ করতাম। আমি কইলাম, ইন্ডিয়ান এস এল আর? ফায়ার করতে গিয়া ইন্ডিয়ান এস এল আরে খুব সমস্যা হইতো বলে মুক্তিযোদ্ধারা কম্পলেইন করতো। আপনার হইছিলো সেই সমস্যা? সে এখন ঘামতে শুরু করছে। সে বলে অস্ত্র ছিলো ফায়ার করতে হয় নাই। আমি কইলাম, ওই যে বললেন, যুদ্ধ করছেন, অস্ত্র থেকে ফায়ার না করেই যুদ্ধ করছেন? বেচারার টয়লেট চাপছিলো মনে হয়, চেয়ার থিকা উঠে সেই যে টয়লেটে গেলো অনেক অপেক্ষার পরেও আইলো না।

সেই আমার ফাউন্ডেশনের সাথে বিচ্ছেদ। আমার ফাউন্ডেশনের সাথে আর থাকা হইলো না।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়া এই গল্পে আমি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে ধরছিলাম। কইছিলাম, কই যুদ্ধ করছেন? কোন অপারেশন করছেন? উত্তর দিতে পারেন নাই।

কয়দিন আগেই একজন সিক্টিন্থ ডিভিশনের মুক্তিযোদ্ধারে ন্যাংটা করে দিছিলাম যে নাকি চায়না বিল্ডিং এর উপরে মেশিনগান ফিট করে রাখার গল্প শুনাইছিলো। সেইটা আবার পত্রিকায় ছাপাও হইছিলো।

আমার একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ৯০ এর গণ অভ্যুত্থানের পরে এরশাদ পড়ছে। আমি ভাঙ্গা পা নিয়া রাজশাহীতে ফিরছি। নানা ছাত্রনেতা যুবনেতা নানা জায়গায় সম্বর্ধনা নিতেছে। একদিন এক জাতীয় পার্টির গুণ্ডাও দেখি সম্বর্ধনা নিতেছে যে নাকি আমারে পুলিশের সাথে মিল্যা পিটায়ে পা ভাইঙ্গা দিছিলো। আরেকটা ঘটনা ঘটছিলো ঢাকায়। নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ, পুরাটাই সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য নাম নিয়া সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতাদের জগন্নাথ কলেজ থিকা দাবড়ায়ে তাড়ায়ে দিছিলো।

ভাই এইটাই বাংলাদেশ।

ফ্যাসিবাদের পতন হইলে, দেখবেন কেমনে একেকজন চেহারা পালটায়। তারপরে ওরাই দল বাইন্ধ্যা আপনারে আমারে দাবড়ানি দিবে। আজ যেমন সিক্সটিন্থ ডিভিশন রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের দাবড়ানির মধ্যে রাখছে।

পিনাকী ভট্টাচার্য এর ফেসবুক থেকে

Comments
Loading...