রাজনীতিতে ইতরামি এবং ইতরদের রাজনীতি : এই খাঁচা ভাঙবো মোরা কেমন করে ?

0 ৮০

মিনার রশিদ

মওলানা ভাসানী নিজেও চার বিয়ে করেছিলেন । তজ্জন্যে তাঁকে আয়ূব খাঁন কিংবা তার সরকারী / বেসরকারী গুন্ডা বাহিনী এমন ভাবে জিল্লতি করে নাই , মওলানা ভাসানীর দাম্পত্য জীবন নিয়ে নিয়ে সরস গল্প বানানো হয় নাই । আয়ূব খাঁন এরূপ ইতরামি করলে ভাসানীর বেগমদের মধ্যেও অনেক প্যাঁচ হয়তো বাঁধিয়ে দিতে পারতেন । এরকম আরো অনেক বড় বড় নেতা ছিলেন যাদেরকে জেলখানায় শুধু রাজবন্দি হিসাবে রাজকীয় সেবাই দেওয়া হয় নাই – দাম্পত্য জীবন পালনেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল । এই বিষয়গুলি নিয়ে ইচ্ছে করলে তখনকার শাসক শ্রেণী অনেক ইতরামি করতে পারতেন , জনমনে অনেক সন্দেহ , সংশয় ঢুকিয়ে দিতে পারতেন । কিন্তু মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তাকে সেই সব স্বৈরশাসকগণ যে সম্মান দেখিয়েছেন তার তুলনায় বর্তমান তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসকদের কর্মকান্ড সত্যিই লজ্জায় ফেলে দেয় ! দ্বিতীয় বিয়ে করে মামুনুল হক ঠিক কাজ করেছেন কি না , তিনি সঠিক নিয়মে পরিবারের অনুমতি নিয়ে এই কাজটি করেছেন কি না – এটিও ধর্তব্যের বিষয় নহে । পারিবারিক অসন্তুষ্টি অসম্ভব কিছু নহে , তবে এই মামুনুল হক বিয়ে করা ছাড়া এই ধরনের হানি ট্র্যাপে পড়বেন – দেশের কোনো পাগলেও এই কথাটি বিশ্বাস করবে না । উপ পত্নী রাখেন সেকুলার সক্ষম পুরুষ । কারণ সমাজ বা পরিবারকে মোকাবেলায় এরা অক্ষম !

কিন্তু সক্ষম ধার্মিক পুরুষ এক্ষেত্রে যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক না কেন – আল্লাহর নাম নিয়ে কবুলই পড়ে ফেলেন !

প্রেসিডেন্ট আয়ূব খাঁন বা তার কোনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বিরোধী রাজনৈতিক নেতার স্ত্রীকে সেই নেতার স্ত্রী কি না তা নিয়ে এমন জঘন্য মন্তব্য করে নাই । গতকাল মাওলানা মমিনুল হকের উপর ছাত্রলীগ / যুবলীগের নেতারা যা করেছে তার মূল উৎসাহ দাতা কে , আজ সংসদের বক্তৃতায় তা স্পষ্ট হয়ে পড়েছে । রাজনীতিতে ইতরামি কোন জায়গায় পৌছে গেছে তা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই । দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে যে ‘রং হেডেড ‘ খেতাব দেয়া হয়েছিল – সেটি যে কতটুকু যথার্থ ছিল তা আবারও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে ।

আজকের এই মজলুম (!) ধর্মীয় নেতা আল্লামা মামুনুল হক মোদি বিরোধী আন্দোলনের সময় বলেছিলেন , তাদের মূল সমস্যা মোদি । কাজেই প্রধানমন্ত্রী যদি মোদির ভিজিট বাতিল করে দেন তাহলে গত নির্বাচনকে মেনে নিয়ে বর্তমান সরকারকে বৈধ বলে মেনে নিবেন ! আশা করি আজ জনাব মামুনুল হক এবং তাঁর অনুসারীরা এখন ঠিকই বুঝতে পেরেছেন যে দেশের মূল সমস্যাটি কোথায় ? আমাদের রুট কজ এনালাইসিস করতে হবে । আগুনে হাত পুড়ে – সবার হাত পুড়িয়ে এই অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের প্রয়োজন পড়বে না ।

একটি রাষ্ট্র যখন ইতরদের হাতে পড়ে তখন সেখানে কেউ নিরাপদ থাকতে পারে না ।

অপরের বউকে নিয়ে নিরাপদে রিসোর্ট / হোটেলে সময় কাটানো যাবে কিন্তু নিজের কবুল পড়া বউকে নিয়ে এমনভাবে অপমানিত হতে হবে ! হায়রে কপাল ! দুর্গতি আর কাকে বলে ! এগুলি নিয়া এখন শুধু কপাল চাপড়ালে হবে না । কিছু করতে হবে এবং তা এখনই । গত এক যুগ ধরে বার বার বলেছি , ওয়েক আপ – মাই কান্ট্রিম্যান । মরণ ঘুম থেকে জাগুন !

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যে আমি গত কয়েকটি পোষ্টে করণীয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছি । আমাদেরকে সমস্যার মূলে হাত দিতে হবে ।

দুটো বিষয় আজকের আলোচনায় টানতে চাচ্ছি । এক , গত ২৬ শে মার্চ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছিলেন সেটি নিয়ে তাঁর নিজের দলের নেতাদের নীরবতা আমাকে কিছুটা অবাক করেছে । জনাব তারেক রহমানের মন্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল করা সম্ভব হতো । এই কাজটি তার দল করে নাই ।

ঐক্য শুধু চাইলেই হবে না । কিছু কাজ করতে হবে , কিছু উদ্যোগ নিতে হবে । আমি আমার আগের লেখায় উল্লেখ করেছি সেই ঐক্য মানে শুধু রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোট করা নয় ।

জনাব তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় যতটুকু উল্লেখ করেছেন সেটার উপরেই প্রাথমিক কাজ শুরু করা যায় । স্বনামধন্য লেখক , ব্লগার ও হিউম্যানরাইট একটিভিষ্ট পিনাকি ভট্টাচার্য তার একটি পোষ্টে অনেকটা বিএনপি প্রধানের বক্তব্যের আলোকেই যুগপৎ আন্দোলনের একটি রূপরেখা দিয়েছেন । আমার কাছে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই খসড়াটিও খুবই সুন্দর মনে হয়েছে ।

দুটি লিংকই কমেন্টে দেওয়া আছে । আমি দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাব এই দুটি প্রস্তাবনা নিয়ে একটু স্টাডি করতে ।

এখন পর্যন্ত বর্তমান ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি না হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো আন্দোলনের মূল নেতৃত্বকে চিহ্নিত না করা ।

যেমন ২০১৮ সালে এক কিম্ভুতকিমাকার ঐক্য সৃষ্টি করা হয় । জামাতকে এক পাশে আড়ালে সরিয়ে ডক্টর কামালকে সামনে আনা হয় । কিন্তু এই মুভমেন্টের কে প্রধান নেতা সেটিকে একটা ধোয়াশার মধ্যে রাখা হয় । এর ফলে ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে ।

এখনও যারা ঐক্যের কথা বলেন তারা এই আন্দোলনের টপ নেতাকে অনেকটা ভাসুর বানিয়ে রেখেছেন । তার নাম নিতেও কেমন যেন একটা অনীহা দেখা দেয় । আমাদের ভাব ও ভাবনার এই অচলায়তনকে ভাঙতে হবে ।

বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল । বর্তমান অবস্থায় কোনওভাবেই দেশের বিরোধী শক্তির পক্ষে এমন একটি দল তৈরি করা সম্ভব হবে না । তাছাড়া এই দলটি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল । গ্লোবাল রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কেও অভিজ্ঞতা রয়েছে । কনজার্ভেটিভ ঘরানার দলটির সেকুলার অবয়ব বিশ্বনেতাদের আতংকও অনেকটা কাঁটাতে পারে । কারণ ধর্মভিত্তিক কোন দল বা তার নেতৃত্বকে গ্লোবালি গ্রহনযোগ্য করানো কতটুকু কঠিন তা আফগানিস্তান বা মিসরের উদাহরন থেকেই যথেষ্ঠ হবে । ঈমানী শক্তির জোর উল্লেখিত দুটি দেশেও কম ছিল না । এর মাঝে এরদোগানের ভারসাম্যপূর্ণ ও সেকুলার পলিসি দুপক্ষকেই কমফোর্ট দিয়েছে । এমতাবস্থায় আগামী দশ / পনের বছর বিএনপির কোনো বিকল্প আমি দেখছি না । এক্ষেত্রে তারেক রহমানকে অগ্রাহ্য করাও কঠিন হবে । একজন রং হেডেড যদি দেশের ক্ষমতায় বসে সারা দেশ ও জাতিকে এভাবে নাড়াতে পারে তবে তারেক রহমানের অসুবিধা কোথায় ? এই কথাটি আমাদেরকে আরো স্পষ্ট করে বলতে হবে ।

আমরা সবাই জানি , ফ্যাসিবাদকে তাড়াতে একটি যথাযথ বাঁশের দরকার । সেই বাঁশটিও মজুদ আছে । আমরা ব্যবহার করতে পারছি না ।আমরা সবাই একটি সুগন্ধি বাঁশ খুঁজছি । কেউ তাতে আতরের সুগন্ধ আর কেউবা পশ্চিমা সেন্ট খুঁজছি, ধূপের ঘ্রাণও খুঁজছে কেউ কেউ । কেউ আতর একদম সহ্য করতে পারে না , আবার কেউ সেন্ট সহ্য করতে পারে না ।

বোধ ও ভাবনার এই খাঁচা ভেঙে সবাই বেরিয়ে আসুন ।

আমি নিশ্চিত বলছি , তখন এই ফ্যাসিবাদকে তাড়াতে এক মাসের বেশি সময় লাগবে না , ইনশাআল্লাহ ।

Comments
Loading...