সরকার দলীয় বিচার ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘন

0 ৯১

লোকমান আহম্মদ আপন

বাংলাদেশের বিচার ও শাসন ব্যবস্থা মোটেও নিরপেক্ষ নয়, পুরোপুরি সরকার দলীয়। বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগ সব সময় সরকারি দলের ফেভারে কাজ করে এটা পুরো দেশবাসি তথা বিশ্ববাসীও জানে।  সর্বশেষ ৩ মার্চ ২০২০ পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তার স্ত্রীর উপর দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলার বিচার নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যা করেছে তা বাংলাদেরশের ইতিহাসে শুধু নজীরবিহীনই নয় চরম নেক্কারজনকও বটে।

দুর্নীতি দমন কমিশন  (দুদক)র করা দুর্নীতির মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের জামিন বাতিল হওয়ার ৫ ঘন্টার মাথায় আবার জামিন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জামিন আবেদন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়া জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নানকে ‘দুর্নীতির অভিযোগে’ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাৎক্ষনিক ভারপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগ করে এই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার স্ত্রীর জামিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর সবই করা হয়েছে সরকাবি দলের অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে। এই ঘটনায় অতীতের মতো আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মোটেও নিরপেক্ষ আর স্বাধীন নয়। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক  চরম নেক্করজনক এই ঘটনার পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছেন। নিজের পদ আর মন্ত্রীত্বের লোভে অন্ধ এসব রাজনীতিবিদের কারণে বাংলাদেশের আইন, বিচার, শাসন ব্যবস্থা আজ চরমভাবে ভূলুন্ঠিত। বাংলাদেশে মানবাধিকার আজ চরমভাবে হুমকীর সম্মুখিন।

পিরোজপুরের এই ঘটনার পর বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উদ্যোগ নেয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেভাবে দেশছাড়তে বাধ্য করেছে সেই বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে । এসকে সিনহা চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সরকারি প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করুক। আইন, বিচার ও শাসন ব্যবস্থা হোক সবার জন্যে সমান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেটা হতে দেয়নি। কারণ, এ কে এম এ আউয়ালের মতো দর্নীতিবাজরাই যে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ঠিকে থাকবার মূল হাতিয়ার। আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পযর্ন্ত দুর্নীতিবাজ ও ক্যাডার সন্ত্রাসীরাই পদ পদবী নিয়ে বহাল তবিয়তে বসে আছেন। আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ নিরপেক্ষ হয়ে গেলে এরা সবাই কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। তখন ক্ষমতায় ঠিকে থাকাটাই আওয়ামী লীগের জন্যে দুরূহ হয়ে যাবে। এজন্যেই আউয়ালের মতো দুর্নীতিবাজদেরকে আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় নিরাপদ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা দিয়ে রাখে।  যার কুফল ভোগ করে আপামর নিরীহ জনগণ। আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের সাথে অবৈধ সম্পদের ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দের কারণে গুটিকয়েক ক্যাডারকে গ্রেফতারের নাটক করে সরকার বুঝাতে চাইছে তারা নিরপেক্ষ। কিন্তু বিবেকবান প্রতিটি মানুষ জানে, আওয়ামী লীগ সরকার এ টু জেট দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এবং বাংলাদেশের আইন ও বিচার বিভাগ পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত।

বিচার বিভাগের প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের নগ্ন প্রভাবের এই ঘটনায় বিবেকবান নাগরিকেরা সরকারের মামলা হামলার ভয়ে উচ্চস্বরে কিছু না বলতে পারলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরছেন তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিস কেন্দ্র, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সহ বেশ কিছু সংস্থা এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ আওয়ামী লীগ সরকারে কাছে এসব ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার কোন মূল্যই নেই।  নেই কোন লজ্জাবোধও।  কারণ, ক্ষমতার মোহে তারা অন্ধ এবং বধির। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকারগুলোও কুক্ষিগত করে চরমভাজব মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

লোকমান আহম্মদ আপন : লেখক ও সাংবাদিক, প্যারিস, ফ্রান্স।

Comments
Loading...