খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

0 ১৭

এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ও মসজিদে তালা

কুমিল্লা মুরাদনগরের বাঙ্গরার কুড়াখালে জুমার খুতবার আজান দেওয়া নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গ্রামটিতে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে কুড়াখাল গ্রামের বাইতুন নুর জামে মসজিদটি। মুসল্লিদের দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানা যুবলীগের সদস্য মো. শাহিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। পলাতক রয়েছেন মসজিদের খতিব মাওলানা কামরুজ্জামান রেজবী।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের খুতবায় মসজিদের ভেতরে জোরে ও আস্তে আজান দেওয়া নিয়ে রেজভী ও সুন্নি মুসল্লিদের দুইপক্ষের সংঘর্ষে কুড়াখাল গ্রামের আবদু খানের ছেলে আবু হানিফ খান (৩৮) নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মুসল্লিরা।

নিহত হানিফের স্ত্রী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি মামলা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাঙ্গরা বাজার থানা যুবলীগের সদস্য মো. শাহিন ও বাঙ্গরা বাজার থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ওরফে ডিজে কামালকে আটক করে পুলিশ।

এর মধ্যে শাহিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং আবুল কালামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবু হানিফ কৃষিকাজ করতেন। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আট মাসের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মসজিদে রেজভী ও সুন্নি মুসল্লিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ফতোয়া দেওয়া নিয়ে রেষারেষি চলছিল। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের আগে খুতবার আজানকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রেজভী সমর্থক বাঙ্গরা বাজার থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালাম ও যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিন ভূঁইয়াসহ একদল যুবক দেশীও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুন্নি সমর্থকদের ওপরে হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে মুসল্লি আবু হানিফ খান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন একই গ্রামের গফুর সরকারের ছেলে আবুল খায়ের (৪৮) ও মোতালেব খানের ছেলে ইমন খান (২৪)। পরে আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, হানিফের স্ত্রীর মামলায় বাঙ্গরা বাজার থানা যুবলীগের সদস্য মো. শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে কুড়াখাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মসজিদে তালা থাকলেও নামাজ ও আজানের সময় খুলে দেওয়া হচ্ছে।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিবিউন
Comments
Loading...