দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশকে যা জানালেন সাবেক জেনারেল আজিজের ছেলে

0 ৩১

রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়ি উল্টে দুই তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় গাড়িতে থাকা তিন যাত্রীর পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। গাড়িতে সাতজন ছিলেন। এর মধ্যে চারজনের নাম জানা গেলেও অজানা রয়ে গেছে অন্য তিন যাত্রীর নাম। তিন যাত্রীর পরিচয় জানতে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজের ছেলে ইশরাক আহমেদ সাদিনের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতের ঘটনায় কাফরুল থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মামলা দুটির তদন্ত করছেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর জলিল।

ইশরাক আহমেদ সাদিন কি তথ্য দিয়েছে জানতে এসআই আলমগীর জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাদিন তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি। সে জানিয়েছে, ওই তিনজনকে আগে কখনো দেখেনি। তারা নিহত রাইয়ানের বন্ধু। ঘটনার দিন তাদের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছে। এর বাইরে আমরা আর কোনো তথ্য পাইনি।

সাদিনকে কেমন দেখলেন জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সে এখন ভালো আছে। তার দুই পায়ে আঘাত পেয়েছে, চিকিৎসা চলছে। তবে পা ভেঙে যায়নি।

জলিল আরও বলেন, আমাদের থানায় যে মামলা দুটি হয়েছে সেগুলো, অপমৃত্যুর মামলা। এগুলোর তদন্ত করার কিছু নাই। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

ঘটনার দিন গাড়ি চালক মহসিনকে দেখেছিলেন এসআই জলিল। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরে আর কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু গাড়ি চালক মহসিনও ওই তিনজনের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তারা রাইয়ানের বন্ধু। সে তাদের কে চেনে না।

গাড়িতে থাকা তিন তরুণের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমি এখনো মামলার কপি পাইনি। আপনি কাফরুল থানায় যোগাযোগ করুন।

এ বিষয়ে জানতে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ গনমাধ্যমের হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায় মঙ্গলবার রাত চারটা ৫৫ মিনিটে রাওয়া ক্লাব ভবনের সামনের রাস্তায় ফ্লাইওভারের নিচে সাতজনকে বহনকারী গাড়িটি ছয়বার পাক খেয়ে ফ্লাইওভারের গোড়ায় এসে থেমে যায়। তাতে গাড়ির চালকের মাথার ওপরে সানরুফ পুরোপুরি ভেঙে সামনের ছাদটি নিচে নেমে আসে।

ঘটনার পরে বিধ্বস্ত পাজেরো স্পোর্টস গাড়িটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেটি এখন ত্রিপল দিয়ে ঢেকে কাফরুল থানার সামনে রাখা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিধ্বস্ত গাড়িটি নিহত রাইয়ানের বাবা প্রয়াত ইলিয়াস আহমেদের নামে নিবন্ধন করা। তিনি একজন গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০১২ সালে স্ট্রোক জনিত কারণে তিনি মারা যান। আয়মান ও রাইয়ানের নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষে দুজনেরই মামা কাফরুল থানায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা করেন।

আয়মানের মামা আবু তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়ার করা মামলায় বলা হয়েছে, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর ভাগনে আয়মান ওমর নিহত হন। এই মৃত্যুর বিষয়ে আয়মানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ওমর ফারুক ও তাঁর মা শাহজাদি নাসিমার কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।

রাইয়ানের মামা হারুন খানের মামলাতেও কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকার কথা বলা হয়েছে। দুই তরুণের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে নিয়ে গেছে তাদের পরিবার। রাইয়ানের লাশ মঙ্গলবারই দাফন করা হয় বলে তাঁর মামা হারুন খান জানিয়েছেন।

হারুন খান আরও জানান, বাংলাদেশ হোপ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাশ করা রাইয়ান কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঢাকায় এসে আটকা পড়েন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর আবার কানাডায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

Comments
Loading...