বাড়িতে তৈরি হচ্ছিল নামীদামি কোম্পানির নকল ওষুধ

0 ১২৭

রাজশাহী নগরীর একটি বাড়িতে তৈরি হচ্ছিল নামীদামি কোম্পানির ভুয়া ওষুধ। দেখতে হুবহু একই রকম হওয়ায় চেনার উপায় নেই যে এগুলো নকল। নিজেদের তৈরি করা এসব ওষুধ তারা রাজশাহী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করছিল।

নগরীর ভদ্রা এলাকায় তারা এই কারবার চালিয়ে আসছিল অন্তত দুই বছর ধরে। তবে, তাদের এই গোপন কারবার ধরে ফেলেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ।

গোপন খবরের ভিত্তিতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে এই কারবারের মূল হোতা নগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে আনিছ (৪২) ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে।

এ সময় জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির যন্ত্রপাতি। এসবের আনুমানিক দাম প্রায় ৭১ লাখ টাকা।

শুক্রবার রাতের অভিযান নিয়ে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। মহানগর ডিবি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে জানানো হয়, প্রায় দুই বছর আগে নগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকায় নিজ বাড়িতেই নকল ওষুধ তৈরির কারবার শুরু করেন আনিস। এ সময়ে তারা বিপুল পরিমাণ দামি ওষুধ বাজারজাত করেছে। রাজশাহীসহ বিভিন্ন বাজারে এখনো অনেক ওষুধ দোকানে দোকানে রয়েছে।

আনিস তার বসতবাড়িতে বিভিন্ন প্রকার প্রতিষ্ঠিত ওষুধ কোম্পানির মোড়কে নকল ওষুধ প্রক্রিয়াজাত করে রাজশাহী মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করছেন বলে জানতে পারে পুলিশ।

এই সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চলে। সেখান থেকে নকল ওষুধ কারখানাটির সন্ধান পায় পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে রয়েছে স্কয়ার কোম্পানির নকল সেসেলো, এস.বি-ল্যাবরেটরিজ কোম্পানির নকল পাওয়ার-৩০, নাভানা কোম্পানির নকল পিজোফেন, রিলায়েন্স কোম্পানির নকল ইলিক্সিম ও নকল রিলাম ২২ পাতা, স্কয়ার কোম্পানির নকল সেকলোর খালি মোড়ক।

ভেজাল ওষুধ তৈরির মেশিন বিলিস্টার, কম্প্রেশার মেশিনও উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ওষুধ ও মেশিনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭১ লাখ টাকা।

আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কারখানা মালিক আনিস জানায়- তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা হতে কাঁচামাল এনে বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির বহুল ব্যবহৃত নকল ওষুধ তৈরি করতো। পরবর্তীতে তার তৈরি নকল ওষুধ বিভিন্ন ফার্মেসিতে পৌঁছে দিতো এবং দেশের বিভিন্ন স্থানেও সরবরাহ করতো।

তিনি জানান, এসব নকল ওষুধ যেগুলো বাজারে আছে, সেগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ   দেশ রুপান্তর
Comments
Loading...