ভারত থেকে ছড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে গুজব!

0

জমিজমা নিয়ে বিরোধে রাজধানীর পল্লবীতে দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া মো. সাহিনুদ্দিনকে হত্যার সময় ধারণ করা ভিডিও ‘নোয়াখালীর হিন্দু মহাজোট কর্মী যতন শাহ হত্যাকাণ্ডের’ ভিডিও বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে। পাশের দেশ ভারতের বেশ কয়েকজন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার করে ধর্মীয় উস্কানি ও গুজব ছড়াতেই এই ভিডিও ছড়ায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দেশটি থেকে ব্যবহার করা বেশ কয়েকটি ফেসবুক ও টুইটার আইডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করতে চক্রটি এই ধরনের কাজ করেছে। কলকাতা থেকেই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নোয়াখালীর যতন শাহ হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে অন্য ঘটনার ভিডিও আপলোড করা হয়। পরে তা বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

১৯ অক্টোবর ছড়ানো এই ভিডিও ফুটেজটি মূলত জমিজমা বিরোধে গত ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া মো. সাহিনুদ্দিনের। ঘটনার সময় কেউ একজন তা ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঘটনার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রায় সব আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হত্যার ভিডিও বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজব ছড়াতে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করতেই এই ধরনের ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।

একটি সূত্র ঢাকাটাইমসকে জানায়, ‘প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, ভিডিওটি কলকাতা থেকে দেবদৃতা ভৌমিক নামে একজন ভারতীয় নাগরিক সর্বপ্রথম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেন। তাছাড়া দেবদাস মন্ডল নামে আরও এক ব্যক্তি কলকাতা থেকেই টুইটারে ভিডিওটি আপলোড করেন। যতন দাসের নামে সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ভিডিওর ক্যাপশনে দেবদাস লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের নোয়াখালীর পূজামণ্ডপে হিন্দু মহাজোট কর্মী যতন সাহা হত্যার ভিডিও ফুটেজ। দোষীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হইতেছে না কেন?’

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া হামলার বিষয়ে আজ দুপুরে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, উস্কানি দিচ্ছেন, তাদের খুব শিগগির গ্রেপ্তার করা হবে। তাদের জবাব দিতেই হবে। তারা মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে কি ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন! কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজ পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপে কোনো কিছু ঘটেনি। কিন্তু এবার দেখছি অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। আসলে ঘটানো হয়েছে।

অন্যদিকে এলিট ফোর্স র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিগত বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

গত ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে শাহীন নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তখন ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ আসামিদের র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছিল; যারা এখন কারাগারে আছে। বর্তমানে একটি কুচক্রী মহল পল্লবীর সেই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ’কে ব্যবহার করে নোয়াখালীর যতন সাহা’কে এভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অপপ্রচার করছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং ন্যাক্কারজনক, যা অমানবিকও বটে।

র‌্যাব আরও জানায়, গত ১২ অক্টোবর ভারতের ত্রিপুরার কমলপুর এলাকার পূজামণ্ডপ ও দোকানপাটে আগুন লাগার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজকে রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দুবাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ বলে অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে চক্রান্তকারীরা। এছাড়াও দেড় বছরের পুরনো বিভিন্ন ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি চক্র। এরূপ উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাইবার নজরদারি ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানো ও উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মাধ্যমে সচেষ্ট থাকবে।

ঢাকাটাইমস

Comments
Loading...