রেইনট্রি ধর্ষণ মামলার রায়, নারী জাতিকে অপমান করেছে: ফখরুল

0
বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায়ে ‌‘সমগ্র নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গতকাল একটা মামলার রায় হয়েছে। রেইনট্রি হোটেলে ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাতে যেটা দেখা যাচ্ছে, আমরা যেটুকু দেখছি পত্রিকাতে.. ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করা হচ্ছে, আদালতেও স্বীকার করছে। কিন্তু রায় হচ্ছে কী? বেকসুর খালাস।’
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণের শিকার মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি গতকালও বলেছিলাম যে, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে। এসকে সিনহাকে (সাবেক প্রধান বিচারপতি) বন্দুক দেখিয়ে দেশ থেকে বের করে দিলেন। কী কারণে? উনি একটা রায় দিয়েছিলেন বিচারক নিয়োগ করবার যে ব্যবস্থা ছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, বিচারকদের অভিসংশনের ব্যাপারে।’
‘সেটা সরকার মেনে নিতে পারেনি। তারপর কী হলো? তাকে একেবারে বন্দুক ঠেকিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া হলো … আমরা তো দেখেছি এগুলো, নামও জানি আমরা। তার মধ্যে একজন চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে, ল’ সেক্রেটারিও ছিলেন সেটার মধ্যে।’
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়- এই খনার বচন বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে। আমরা একটা নষ্ট নেতৃত্বের মধ্যে পড়ে গেছি। এখানে রাজা এমন হয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টগুলো বোঝার শক্তিও তাদের নেই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আলেম ওলামা যাদের মানুষ সম্মান করে। এরা তাদের এক কথায় ধরে নিয়ে টপ করে জেলে পুরে দেয়। তারপর তার বিরুদ্ধে যত রকমের কল্পিত চরিত্র হরণের ব্যবস্থা করতে থাকে। অবলীলায় গুলি করে হত্যা করে। আমরা কী শাপলা চত্বরের কথা ভুলে গেছি, ভুলিনি তো। কীভাবে এসব আলেম ওলামাদের, যাদের ওয়াজ শুনলে মানুষের চোখ দিয়ে পানি পড়ে, সেই মানুষগুলোকে আজকে কারাগারের অন্তরালে আটকে রেখেছে এ আওয়ামী লীগ সরকার।
তিনি বলেন, ডিজেল ব্যবহার করে বাস-ট্রাক, বড়লোকদের প্রাডো গাড়িতে ডিজেল ব্যবহার হয় না। কেরোসিন ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ। প্রজারা কষ্ট পায়। আর যিনি রাজা উনি তখন প্যারিসে বক্তব্য দেন, স্কটল্যান্ডে বক্তব্য দেন, অথবা গ্লাসগোতে পরিবেশের বক্তৃতা করেন, লন্ডনে বক্তৃতা করেন। গোটা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। ভালো কথা, আমাদের নেতা যদি সারা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন, দুঃখের কিছু নেই। কিন্তু তার দেশে কী ঘটছে? দেশের মানুষ কেমন আছে। আজকে কত বড় লজ্জা আমাদের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন গণতন্ত্র সভা ডেকেছেন, একশটা দেশকে ডেকেছেন। পত্রিকায় দেখেছি। আমরা শান্তি পেতাম, ভালো লাগতো, নিজের মাথাটা উঁচু হয়ে দাঁড়াতো। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, বাংলাদেশ। অথচ আমাদের নামটা সেখানে নেই।
তিনি আরো বলেন, গত ১২/১৪ বছরে আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ ছিলাম। গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি, যার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের মতো একটা ইউনিক সিস্টেম আমরা নিয়ে এসেছিলাম, সুষ্ঠু নির্বাচন করতাম, সেই দেশটাকে আজকে অগণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। এর চেয়ে লজ্জার, দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির  চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।
Comments
Loading...